Dhaka ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চুনারুঘাট চন্ডিছড়া চা বাগানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বড়গাছীর মথুরায় জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ, মাওলানা নুরুজ্জামানের গণসংযোগ সিরাজগঞ্জে ঠিকাদারকে মারপিট করে পৌনে দুই লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় মামলা সুন্দরবনের জয়মনি এলাকায় কুমিরের আক্রমনে এক নারীর মৃত্যু ​শতভাগ রোভার জেলার স্বীকৃতি পেল কিশোরগঞ্জ, স্কাউটিংয়ে নতুন মাইলফলক। হোসেনপুরে ব্র্যাকের বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা বিতরণ, স্বাবলম্বী হবেন প্রান্তিক নারীরা তারেক রহমান ও মোরশেদ মিল্টনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাজাহানপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন ​বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ঢাবি: ভোরেই বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ উপভোগে হাজারো দর্শক কালিয়াকৈর গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও এলাকা পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

পলাশবাড়ীর ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১২ সময় দেখুন

মোঃ উজ্জ্বল সরকার গাইবান্ধা: জীবিকার তাগিদে শহরের ফুটপাতই যাদের আশ্রয়, সেই পলাশবাড়ীর অসংখ্য ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ীর জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণায় তারা এখন দিশেহারা—কোথায় যাবে, কীভাবে চলবে তাদের সংসার—এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিটি মুখে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি রয়েছে। এই ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ডাকবাংলো সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহ করা মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর ধরে এ স্থানেই তারা গড়ে তুলেছেন তাদের ছোট্ট জীবনের ভরসা। প্রতিদিনের অল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ।

আরও পড়ুনঃ  নান্দাইলে সরকারি গাছ কেটে সাবাড়, এসিল্যান্ডের অভিযানে গাছ জব্দ

 

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন, “এই ফুটপাতই আমাদের সবকিছু। এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাই। অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। এখন যদি হঠাৎ উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে আমরা পথে বসে যাবো। তাদের আশঙ্কা, উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর হলে শুধু ব্যবসা নয়, ভেঙে পড়বে তাদের স্বপ্নও। ঋণের কিস্তির চাপ, পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া—সবকিছুই হয়ে উঠবে অনিশ্চিত। এক অনিবার্য আর্থিক সংকটে পড়ে যেতে পারেন তারা। অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উচ্ছেদ অভিযান প্রয়োজন হলেও মানবিক দিকটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। তারা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য চরম দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  নবাবগঞ্জে আমবাগান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

 

তাদের দাবি, পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা পরিকল্পিত ফলের বাজার গড়ে তুলে এসব ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। এতে যেমন শহরের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, তেমনি জীবিকার নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। মানবিকতার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে দ্রুত একটি কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বৃহত্তর বাস্তবতা—সংগ্রাম, বেঁচে থাকা এবং পরিবারকে টিকিয়ে রাখার নিরন্তর চেষ্টা।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চুনারুঘাট চন্ডিছড়া চা বাগানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

পলাশবাড়ীর ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি

আপডেটের সময়: ০৮:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ উজ্জ্বল সরকার গাইবান্ধা: জীবিকার তাগিদে শহরের ফুটপাতই যাদের আশ্রয়, সেই পলাশবাড়ীর অসংখ্য ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ীর জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণায় তারা এখন দিশেহারা—কোথায় যাবে, কীভাবে চলবে তাদের সংসার—এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিটি মুখে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি রয়েছে। এই ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ডাকবাংলো সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহ করা মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর ধরে এ স্থানেই তারা গড়ে তুলেছেন তাদের ছোট্ট জীবনের ভরসা। প্রতিদিনের অল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ।

আরও পড়ুনঃ  অস্তিত্ব সংকটে আসকার দিঘি উপরে কচুরিপানা, নিচে দূষিত কালো পানি

 

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন, “এই ফুটপাতই আমাদের সবকিছু। এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাই। অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। এখন যদি হঠাৎ উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে আমরা পথে বসে যাবো। তাদের আশঙ্কা, উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর হলে শুধু ব্যবসা নয়, ভেঙে পড়বে তাদের স্বপ্নও। ঋণের কিস্তির চাপ, পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া—সবকিছুই হয়ে উঠবে অনিশ্চিত। এক অনিবার্য আর্থিক সংকটে পড়ে যেতে পারেন তারা। অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উচ্ছেদ অভিযান প্রয়োজন হলেও মানবিক দিকটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। তারা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য চরম দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

 

তাদের দাবি, পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা পরিকল্পিত ফলের বাজার গড়ে তুলে এসব ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। এতে যেমন শহরের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, তেমনি জীবিকার নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। মানবিকতার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে দ্রুত একটি কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বৃহত্তর বাস্তবতা—সংগ্রাম, বেঁচে থাকা এবং পরিবারকে টিকিয়ে রাখার নিরন্তর চেষ্টা।

আরও পড়ুনঃ  নান্দাইলে সরকারি গাছ কেটে সাবাড়, এসিল্যান্ডের অভিযানে গাছ জব্দ