
মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ম্রো সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) আয়োজিত এই সম্মেলনে ম্রো জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি, নবাগত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফরহাদুর রহমান, পিএসসি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন এবং আলীকদম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম।সম্মেলনে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং মুরুং, মুরুং নেতা মেনদন মুরুং, ইয়ংলক মুরুং এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকার ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে আলীকদম ও লামা উপজেলার দরিদ্র ও অনাথ ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় ম্রো কমপ্লেক্সে থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অতীতে এই এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।বিদায়ী আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, আলীকদম জোন আলীকদম ও লামা উপজেলার শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকবে।কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং মুরুং তাঁর বক্তব্যে বলেন, ম্রো জনগোষ্ঠী স্থানীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একসময় এ অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ফলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নবনির্মিত ‘আলীকদম-পোয়ামুহুরী সড়ক’ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি শান্তি ও উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।সম্মেলনে বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।‘ম্রো সম্মেলন-২০২৬’-এর মধ্য দিয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিবেদকের নাম 


















