Dhaka ১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন যানচলাচল সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনাবলী প্রকাশ চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্মীপুরে ফোর লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা নাগরপুরে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ৮ দলীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জয়মনি উইনার্স ক্লাব থানারহাট মডেল মাদরাসার দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

দখল-দূষণে ধুঁকছে মোংলার ঠাকুরানী খাল

শেখ রাফসান মোংলা প্রতিনিধিঃ এক সময় পণ্যবাহী নৌকার চলাচলে সরগরম ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরানী খাল। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান এই খাল এখন দখল ও দূষণের চাপে প্রায় মৃত। কোথাও খাল সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব। সরকারি নথি অনুযায়ী খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কিন্তু বাস্তবে এর বড় একটি অংশ এখন জবরদখলের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। ভূমি অফিসের নথিতে অন্তত ৩১ জন দখলদারের নাম রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের জোরে অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে খালের ওপর দোকানপাটসহ স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।

আরও পড়ুনঃ  অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত 

 

খাল দখলের ফলে মোংলা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা জনজীবনকে করে তুলছে দুর্বিষহ। মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি নূর আলম শেখ বলেন, অতীতেও একাধিকবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে খালটি বিলীন হওয়ার পথে। তবে এবার কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। খাল খনন ও উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মোংলার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, খালের নথিপত্র যাচাই এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং গরমে মানুষের হাঁসফাঁস

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামও বলেছেন, জলাধার রক্ষায় কোনো প্রভাবশালীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল উদ্ধারের উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করে ঠাকুরানী খালের হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনা এখন মোংলাবাসীর অন্যতম দাবি। প্রশ্ন এখন একটাই—এবার কি সত্যিই মুক্তি পাবে ঠাকুরানী খাল, নাকি আগের মতো এই আশ্বাসও শেষ পর্যন্ত কেবল গল্প হয়েই থেকে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা

দখল-দূষণে ধুঁকছে মোংলার ঠাকুরানী খাল

আপডেটের সময়: ০৬:২৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

শেখ রাফসান মোংলা প্রতিনিধিঃ এক সময় পণ্যবাহী নৌকার চলাচলে সরগরম ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরানী খাল। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান এই খাল এখন দখল ও দূষণের চাপে প্রায় মৃত। কোথাও খাল সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব। সরকারি নথি অনুযায়ী খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কিন্তু বাস্তবে এর বড় একটি অংশ এখন জবরদখলের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। ভূমি অফিসের নথিতে অন্তত ৩১ জন দখলদারের নাম রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের জোরে অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে খালের ওপর দোকানপাটসহ স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।

আরও পড়ুনঃ  গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং গরমে মানুষের হাঁসফাঁস

 

খাল দখলের ফলে মোংলা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা জনজীবনকে করে তুলছে দুর্বিষহ। মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি নূর আলম শেখ বলেন, অতীতেও একাধিকবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে খালটি বিলীন হওয়ার পথে। তবে এবার কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। খাল খনন ও উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মোংলার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, খালের নথিপত্র যাচাই এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামও বলেছেন, জলাধার রক্ষায় কোনো প্রভাবশালীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল উদ্ধারের উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করে ঠাকুরানী খালের হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনা এখন মোংলাবাসীর অন্যতম দাবি। প্রশ্ন এখন একটাই—এবার কি সত্যিই মুক্তি পাবে ঠাকুরানী খাল, নাকি আগের মতো এই আশ্বাসও শেষ পর্যন্ত কেবল গল্প হয়েই থেকে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত