Dhaka ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাটারা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাহিন গ্রেপ্তার নগরকান্দায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় উদযাপিত জন্মাষ্টমী শরতের বিকেলে ব্যস্ত ধুনটের সোনাহাটা বাজার কুলিয়ারচরের গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউপি নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে আলমগীর হোসেন পানছড়িতে “ওয়াদুদ গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” উদ্বোধন পানছড়িতে জেলা পরিষদ সদস্য রুমেল মারমাকে সংবর্ধনা লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে গণমিছিল করেছে দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী নাটোর বারনই নদীতে আচমকা ভেসে উঠছে বিপুল মাছ: বিষ নাকি গ্যাস ৫ দিন পর খুলছে হিলি স্থলবন্দর দীঘিনালায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত

চবি শিক্ষার্থী অর্পিতা শীলের চোখে সুন্দরবনের ঢাংমারী: জীবনসংগ্রাম ও আতঙ্কে জর্জরিত জেলেপল্লী

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০১:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৫১ সময় দেখুন

সুন্দরবনের ঢাংমারী: তিন দিনের সফরে দেখা সংগ্রামী জীবন। আমাদের সুন্দরবন সফর ছিল তিন দিনের। আমাদের সেশনের সবাই গিয়েছিলাম।তবে ম্যাম আমাদের গ্রুপ হিসেবে ভাগ করে দিয়েছিলো। মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম—আমি, সাদিয়া, সুমাইয়া, সামান্তা, লাবণি, মৌমিতা, রাফি, দিপ্ত হাসিব,মেহেজাবিন,সানজিদা। আমাদের সঙ্গে ছিলেন দুইজন নির্দেশক ম্যাম। সফরের উদ্দেশ্যে আমরা ৪ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৫টায় রওনা দিই এবং ৭ তারিখ রাতের দিকে ফিরে আসি।

প্রতিটি দিনই নতুন কিছু শেখার, নতুন কিছু দেখার অভিজ্ঞতায় ভরা ছিল। তবে শেষ দিনের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই আলাদা—হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আমরা জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাগেরহাট জেলার সুন্দরবনের করমজল সংলগ্ন এক জেলেপল্লিতে পৌঁছালাম। গ্রামের নাম ঢাংমারী। মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জনপদটি যেন অবহেলা ও বঞ্চনার এক নীরব দলিল।

আরও পড়ুনঃ  মাটিন্দর ইউনিয়নে শুরু হলো খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ

গ্রামে ঢুকতেই বোঝা গেল, এখানকার মানুষের জীবন কতটা সংগ্রামী। বাইরে থেকে কেউ আসলেই তাদের চোখে ভেসে ওঠে এক রকম আশা—কেউ হয়তো সাহায্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছে সাহায্য খুব কমই পৌঁছায়।

ঢাংমারীর মানুষের খাবার-জলের প্রধান উৎস হলো বৃষ্টির পানি। তারা সারাবছর বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখে, সেটুকুই পানীয় হিসেবে ব্যবহার করে। শীতকালে পর্যাপ্ত পোশাকও নেই অনেকের। জীবিকা মূলত মাছ ধরা বা সামান্য চাষাবাদে নির্ভর। তবে লবণাক্ত মাটির কারণে চাষাবাদের সুযোগও সীমিত।

আরও পড়ুনঃ  শরণখোলায় টানা বৃষ্টিতে সড়কে খানাখন্দ, গাছ পড়ে বন্ধ চলাচল।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো কুমিরের আতঙ্ক। আমরা এমন এক ব্যক্তির সঙ্গেও পরিচিত হলাম, যিনি মাছ ধরার সময় কুমিরের আক্রমণে আহত হয়েছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য আশপাশে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিকিৎসা নিতে হলে দূরের মোংলা শহরে যেতে হয়, যা অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব।

শিক্ষার অবস্থা করুণ। গ্রামের স্কুল সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তাও অনেক শিশু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এই সামান্য সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। ফলে অল্প বয়সেই জীবনের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাদের।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ১, মামলা প্রক্রিয়াধীন

চরম দারিদ্র্য আর বন্যপ্রাণীর ভয়—এই দুইয়ের মধ্যে প্রতিদিন কাটে ঢাংমারীর মানুষের জীবন। দুঃখজনকভাবে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল তাদের “সুন্দরবনের বানর” বলে অবমাননাকরভাবে অভিহিত করে।

ঢাংমারীর মানুষের জীবনকাহিনী শুধু করুণ নয়, এটি আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। উন্নয়ন ও সভ্যতার আলো থেকে বহু দূরে থাকা এই জনপদ আজও অপেক্ষায়—মানবিক সহানুভূতি, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার।

লেখক
অর্পিতা শীল
——- শিক্ষার্থী
বিভাগ: প্রাণীবিজ্ঞান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সেশন; ২০২২-২০২৩

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাটারা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাহিন গ্রেপ্তার

চবি শিক্ষার্থী অর্পিতা শীলের চোখে সুন্দরবনের ঢাংমারী: জীবনসংগ্রাম ও আতঙ্কে জর্জরিত জেলেপল্লী

আপডেটের সময়: ০১:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

সুন্দরবনের ঢাংমারী: তিন দিনের সফরে দেখা সংগ্রামী জীবন। আমাদের সুন্দরবন সফর ছিল তিন দিনের। আমাদের সেশনের সবাই গিয়েছিলাম।তবে ম্যাম আমাদের গ্রুপ হিসেবে ভাগ করে দিয়েছিলো। মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম—আমি, সাদিয়া, সুমাইয়া, সামান্তা, লাবণি, মৌমিতা, রাফি, দিপ্ত হাসিব,মেহেজাবিন,সানজিদা। আমাদের সঙ্গে ছিলেন দুইজন নির্দেশক ম্যাম। সফরের উদ্দেশ্যে আমরা ৪ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৫টায় রওনা দিই এবং ৭ তারিখ রাতের দিকে ফিরে আসি।

প্রতিটি দিনই নতুন কিছু শেখার, নতুন কিছু দেখার অভিজ্ঞতায় ভরা ছিল। তবে শেষ দিনের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই আলাদা—হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আমরা জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাগেরহাট জেলার সুন্দরবনের করমজল সংলগ্ন এক জেলেপল্লিতে পৌঁছালাম। গ্রামের নাম ঢাংমারী। মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জনপদটি যেন অবহেলা ও বঞ্চনার এক নীরব দলিল।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই লং মার্চ সফল করতে প্রস্তুত ১১ দলীয় ঐক্য জোট

গ্রামে ঢুকতেই বোঝা গেল, এখানকার মানুষের জীবন কতটা সংগ্রামী। বাইরে থেকে কেউ আসলেই তাদের চোখে ভেসে ওঠে এক রকম আশা—কেউ হয়তো সাহায্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছে সাহায্য খুব কমই পৌঁছায়।

ঢাংমারীর মানুষের খাবার-জলের প্রধান উৎস হলো বৃষ্টির পানি। তারা সারাবছর বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখে, সেটুকুই পানীয় হিসেবে ব্যবহার করে। শীতকালে পর্যাপ্ত পোশাকও নেই অনেকের। জীবিকা মূলত মাছ ধরা বা সামান্য চাষাবাদে নির্ভর। তবে লবণাক্ত মাটির কারণে চাষাবাদের সুযোগও সীমিত।

আরও পড়ুনঃ  মাটিন্দর ইউনিয়নে শুরু হলো খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো কুমিরের আতঙ্ক। আমরা এমন এক ব্যক্তির সঙ্গেও পরিচিত হলাম, যিনি মাছ ধরার সময় কুমিরের আক্রমণে আহত হয়েছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য আশপাশে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিকিৎসা নিতে হলে দূরের মোংলা শহরে যেতে হয়, যা অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব।

শিক্ষার অবস্থা করুণ। গ্রামের স্কুল সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তাও অনেক শিশু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এই সামান্য সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। ফলে অল্প বয়সেই জীবনের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাদের।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ১, মামলা প্রক্রিয়াধীন

চরম দারিদ্র্য আর বন্যপ্রাণীর ভয়—এই দুইয়ের মধ্যে প্রতিদিন কাটে ঢাংমারীর মানুষের জীবন। দুঃখজনকভাবে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল তাদের “সুন্দরবনের বানর” বলে অবমাননাকরভাবে অভিহিত করে।

ঢাংমারীর মানুষের জীবনকাহিনী শুধু করুণ নয়, এটি আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। উন্নয়ন ও সভ্যতার আলো থেকে বহু দূরে থাকা এই জনপদ আজও অপেক্ষায়—মানবিক সহানুভূতি, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার।

লেখক
অর্পিতা শীল
——- শিক্ষার্থী
বিভাগ: প্রাণীবিজ্ঞান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সেশন; ২০২২-২০২৩