
মো. আব্দুল করিম গাজী,শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাজৈর খেয়াঘাট হয়ে বান্দাঘাটা উপজেলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশের মাটি নরম হয়ে গাছপালা উপড়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ফজলুল উলুম মোহসিনিয়া মহিলা কওমি মাদ্রাসার পাশে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়কের অধিকাংশ অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এমনিতেই এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় ছোট যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক মহিউদ্দিন জানান, বুধবার ভোরে ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে বিকট শব্দ শুনতে পান। সকালে উঠে তিনি মাদ্রাসার পাশের গাছটি সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। গাছটি পড়ে সড়কের অধিকাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসাটিতে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। সড়কের পাশে আরও বেশ কিছু গাছের গোড়া বৃষ্টির পানিতে নরম হয়ে গেছে। এসব গাছ যেকোনো সময় সড়কের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে বান্দাঘাটা পর্যন্ত ওয়াপদা বেড়িবাঁধের সড়কটি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় থাকায় খালের পরের এই সড়কটিই বর্তমানে এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। শিক্ষার্থী, পথচারী ও ছোট যানবাহন নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু গাছ উপড়ে পড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল আবারও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের পাশের মাটি আলগা হয়ে আরও অনেক গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খানাখন্দ। ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছোট যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে শরণখোলা সরকারি কলেজ, রাজৈর মাদ্রাসা, রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুলসহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত অপসারণ, সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং খানাখন্দে ভরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষা না করে এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামত ও ঝুঁকিমুক্ত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















