Dhaka ০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোবিন্দগঞ্জে শিংজানী খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে ডিসি কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে উপজেলায় যুবকের ভাসমান মরদেহ হঠাৎ দুই রাজস্ব সার্কেলে ডিসি ফরিদা, সরাসরি শুনলেন সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ অবৈধ জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ চন্দ্রগঞ্জ থানা এরিয়ায় গ্রেফতার ৮ ধোবাউড়ায় শি*শু হ*ত্যা: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন -পুলিশ সুপার আগানগর আমবাগীচা খেলার মাঠকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ: পরিদর্শন করলেন ইউএনও ফরিদপুরে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‘বড় আউলিয়া’ থেকে ‘বড়লিয়া’—জনশ্রুতি, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে এক জনপদের পরিচয় সন্ধান বাউফলে এ হামলা,ভাংচুর ও সিসি ক্যামেরা চুরির মামলায় কিশোর গ্যাং এর তিন সদস্যকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরন ফরিদপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)

ঢাকা থেকে খেলা শেষ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছিলেন। কিন্তু নিজ শহর চট্টগ্রামেই চরম পুলিশি হয়রানি ও নির্মম মারধরের শিকার হতে হলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তাকে হেনস্তা ও অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ইতিমধ্যেই খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।েএর প্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার করে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান তিনি। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপ ফুটবল কে স্বাগত জানিয়ে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত

গাড়িটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নেমে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা সেটির গতিবিধি রোধ করে। নাঈম বলেন:

“গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে চালকের থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আমাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। আমি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও তারা থামেনি। উল্টো খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তার সঙ্গে থাকা সোহেল নামে এক সোর্সও পাইপ দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটায়।”

মারধরের একপর্যায়ে নাঈমকে পুলিশের গাড়িতে না তুলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।

আরও পড়ুনঃ  জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-জনতা শিক্ষার্থীদের নিয়ে জমজমাট ফুটবল ম্যাচ

পরবর্তীতে নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওসির কক্ষে গিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈমের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর সময় ওসি উল্টো তাকে ধমক দিয়ে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে একটি ফোন আসার পর ওসির আচরণ নরম হয়।

এই বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “থানার সেকেন্ড অফিসারের দেওয়া চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক আমাকে না জানিয়েই এই অভিযান চালিয়েছিল এবং নাঈম হাসানকে থানায় এনেছিল।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, চোরাচালান রোধের একটি অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়ম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখেনি বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকুলসহ তিনজনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কেউ হারেনি: ১-১ গোলে ড্র হয়েছে

দেশের একজন সম্মানিত জাতীয় ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন:

“চট্টগ্রামের গর্ব ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর এই পুলিশি নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ ও তাদের সোর্স অত্যন্ত বর্বর আচরণ করেছে, যা কোনো সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেই কাম্য নয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গোবিন্দগঞ্জে শিংজানী খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে ডিসি

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আপডেটের সময়: ০২:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)

ঢাকা থেকে খেলা শেষ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছিলেন। কিন্তু নিজ শহর চট্টগ্রামেই চরম পুলিশি হয়রানি ও নির্মম মারধরের শিকার হতে হলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তাকে হেনস্তা ও অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ইতিমধ্যেই খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।েএর প্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার করে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান তিনি। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার আরেক নাম আর্জেন্টিনা

গাড়িটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নেমে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা সেটির গতিবিধি রোধ করে। নাঈম বলেন:

“গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে চালকের থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আমাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। আমি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও তারা থামেনি। উল্টো খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তার সঙ্গে থাকা সোহেল নামে এক সোর্সও পাইপ দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটায়।”

মারধরের একপর্যায়ে নাঈমকে পুলিশের গাড়িতে না তুলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।

আরও পড়ুনঃ  জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-জনতা শিক্ষার্থীদের নিয়ে জমজমাট ফুটবল ম্যাচ

পরবর্তীতে নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওসির কক্ষে গিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈমের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর সময় ওসি উল্টো তাকে ধমক দিয়ে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে একটি ফোন আসার পর ওসির আচরণ নরম হয়।

এই বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “থানার সেকেন্ড অফিসারের দেওয়া চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক আমাকে না জানিয়েই এই অভিযান চালিয়েছিল এবং নাঈম হাসানকে থানায় এনেছিল।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, চোরাচালান রোধের একটি অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়ম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখেনি বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকুলসহ তিনজনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কেউ হারেনি: ১-১ গোলে ড্র হয়েছে

দেশের একজন সম্মানিত জাতীয় ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন:

“চট্টগ্রামের গর্ব ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর এই পুলিশি নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ ও তাদের সোর্স অত্যন্ত বর্বর আচরণ করেছে, যা কোনো সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেই কাম্য নয়।