Dhaka ০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাউনিয়ায় পাকা সেতু না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষক ছানোয়ার হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মহড়া অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় পাথরবোঝাই ট্রাকের চাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত মিসেস মাম্যাচিংকে গণসংবর্ধনা, বান্দরবানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আনন্দ মিছিল চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয় নি। লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ভুয়া ‘১৪৪ ধারা’ জারি, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ অগ্নিনিরাপত্তায় সচেতনতার আহ্বান হাজী আব্দুস সাত্তারের। ডিএমপি সদস্যদের ভিআইপি প্রটোকল ও কেপিআই নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু জামালপুরে ১৬ বস্তা ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ডাদেশ

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয়-রোজগার নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনই শিল্পমালিকরাও পড়েছেন চরম। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (২৩ আগস্ট) তীব্র গ্যাস সংকটে সংকটে নরসিংদীর ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই দিনে শতাধিক কারখানায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। কারখানায় কাজ না থাকায় শ্রমিকদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয়-রোজগার নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনই শিল্পমালিকরাও পড়েছেন চরম সংকটে। ১৫ পিএসআই থেকে শূন্যে গ্যাসের চাপ শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, বর্তমান সংকটের আগে থেকেই নরসিংদীতে গ্যাসের চাপ ক্রমেই কমছিল। কম চাপের মধ্যেও পালাক্রমে কারখানা চালিয়ে কোনোভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হচ্ছিল। কিন্তু, গত এক সপ্তাহে গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কোনো কোনো সময় চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় কারখানার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে শিল্পকারখানায় প্রায় ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও কিছুদিন ধরে তা ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সীমিত গ্যাস সরবরাহ ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে গত এক মাসে অনেক কারখানা মাত্র ১০ শতাংশের মতো উৎপাদন ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু, পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ায় এখন অনেক কারখানার চাকা পুরোপুরি থেমে গেছে। বন্ধের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় সব মিল: নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় গ্যাসের অভাবে চিশতিয়া সাইজিং মিল, ইয়ামিন সাইজিং মিল, মোমিন সাইজিং মিল, হোসাইন ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিল, আবেদ টেক্সটাইল মিলস, শিল্পী ডাইং, নদী-বাংলা সাইজিং মিল, ভূইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস, আনোয়ার প্রিনটেক্স, রংধনু সাইজিং মিল, এন আহমেদ ডাইং ও নাসির ডাইংসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দৌলতখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, একজনকে জরিমানা

মাধবদীতেও আমানত শাহ গ্রুপ ও পাকিজা গ্রুপের কয়েকটি কারখানাসহ এমএমকে ডাইং, মুক্তাদিন ডাইং, মাধবদী ডাইং, মুক্তা ডাইং ও সখিনা ডাইংসহ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস সংকট নিয়ে জেলার ১২ জন শিল্পমালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে রাইজিংবিডি ডটকমের এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতার পর শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। এর মধ্যেই নতুন করে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের মালিক নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বলেছেন, “নরসিংদী দেশের কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে। গ্যাস সংকটের কারণে জেলার অনেক মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন তো দূরের কথা, গ্যাসের বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু বলেছেন, “ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানার জন্য বরাদ্দ গ্যাসের একটি অংশ সার কারখানায় সরিয়ে নেওয়ার ফলে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুনঃ  কেশবপুরের প্রশংসিত ইউএনও এবার হোসেনপুরে, দায়িত্ব নিলেন রেকসোনা খাতুন

ভূইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস লিমিটেডের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূইয়া দ্রুত সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “সরকারকে শিল্পমালিকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, এই সংকট কবে সমাধান হবে এবং ততদিন তাদের কী করতে হবে? শ্রমিক অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতার শঙ্কা: বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ও নরসিংদীর আবেদ টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাদের কারখানায় গত ২৫ দিন ধরে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ। শ্রমিকরা কারখানায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে যেন অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংকের সুদ ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে শিল্পমালিকদের হিমশিম খেতে হবে। এতে শ্রমিক অসন্তোষের পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”

উৎপাদন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কারখানার শ্রমিকরা। নিয়মিত কাজ না থাকায় অনেক শ্রমিক কারখানায় এসে বসে থাকছেন। কেউ কেউ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত থাকলেও আগের মতো আয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এক শ্রমিক বলেন, “কারখানায় কাজ বন্ধ থাকায় নিয়মিত আয় করতে পারছি না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে কারখানা চালু করা হোক, এটাই আমাদের দাবি। আরেক শ্রমিক বলেন, “কারখানায় এসে কাজ না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে। আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত উৎপাদন শুরু হোক। আরেক শ্রমিকের ভাষ্য, “আমরা কাজ করেই সংসার চালাই। কারখানা বন্ধ থাকলে শুধু মালিক নয়, আমাদের পরিবারগুলোও সমস্যায় পড়ে। গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

আরও পড়ুনঃ  লামায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোলাই মদ ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পরোয়ানাভুক্ত ১

নরসিংদীতে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাকসুদ রহমান বলেছেন, “এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে নরসিংদী ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নরসিংদী জেলা সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এমএমকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুল মোমেন মোল্লা বলেছেন, “সাধারণত সিএনজি স্টেশনগুলোতে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু, সম্প্রতি কোনো কোনো দিন চাপ ০ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, নরসিংদীর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি টেক্সটাইল, ডাইং, সাইজিংসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, জেলায় ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭৫টি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৭৭ মানুষ।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শ্রমিকদের আয়, শিল্পমালিকদের বিনিয়োগ, ব্যাংক ঋণ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাউনিয়ায় পাকা সেতু না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ

আপডেটের সময়: ০৪:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয়-রোজগার নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনই শিল্পমালিকরাও পড়েছেন চরম। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (২৩ আগস্ট) তীব্র গ্যাস সংকটে সংকটে নরসিংদীর ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই দিনে শতাধিক কারখানায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। কারখানায় কাজ না থাকায় শ্রমিকদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয়-রোজগার নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনই শিল্পমালিকরাও পড়েছেন চরম সংকটে। ১৫ পিএসআই থেকে শূন্যে গ্যাসের চাপ শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, বর্তমান সংকটের আগে থেকেই নরসিংদীতে গ্যাসের চাপ ক্রমেই কমছিল। কম চাপের মধ্যেও পালাক্রমে কারখানা চালিয়ে কোনোভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হচ্ছিল। কিন্তু, গত এক সপ্তাহে গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কোনো কোনো সময় চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় কারখানার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে শিল্পকারখানায় প্রায় ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও কিছুদিন ধরে তা ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সীমিত গ্যাস সরবরাহ ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে গত এক মাসে অনেক কারখানা মাত্র ১০ শতাংশের মতো উৎপাদন ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু, পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ায় এখন অনেক কারখানার চাকা পুরোপুরি থেমে গেছে। বন্ধের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় সব মিল: নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় গ্যাসের অভাবে চিশতিয়া সাইজিং মিল, ইয়ামিন সাইজিং মিল, মোমিন সাইজিং মিল, হোসাইন ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিল, আবেদ টেক্সটাইল মিলস, শিল্পী ডাইং, নদী-বাংলা সাইজিং মিল, ভূইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস, আনোয়ার প্রিনটেক্স, রংধনু সাইজিং মিল, এন আহমেদ ডাইং ও নাসির ডাইংসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দৌলতখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, একজনকে জরিমানা

মাধবদীতেও আমানত শাহ গ্রুপ ও পাকিজা গ্রুপের কয়েকটি কারখানাসহ এমএমকে ডাইং, মুক্তাদিন ডাইং, মাধবদী ডাইং, মুক্তা ডাইং ও সখিনা ডাইংসহ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস সংকট নিয়ে জেলার ১২ জন শিল্পমালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে রাইজিংবিডি ডটকমের এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতার পর শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। এর মধ্যেই নতুন করে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের মালিক নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বলেছেন, “নরসিংদী দেশের কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে। গ্যাস সংকটের কারণে জেলার অনেক মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন তো দূরের কথা, গ্যাসের বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু বলেছেন, “ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানার জন্য বরাদ্দ গ্যাসের একটি অংশ সার কারখানায় সরিয়ে নেওয়ার ফলে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুনঃ  কেশবপুরের প্রশংসিত ইউএনও এবার হোসেনপুরে, দায়িত্ব নিলেন রেকসোনা খাতুন

ভূইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস লিমিটেডের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূইয়া দ্রুত সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “সরকারকে শিল্পমালিকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, এই সংকট কবে সমাধান হবে এবং ততদিন তাদের কী করতে হবে? শ্রমিক অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতার শঙ্কা: বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ও নরসিংদীর আবেদ টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাদের কারখানায় গত ২৫ দিন ধরে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ। শ্রমিকরা কারখানায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে যেন অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংকের সুদ ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে শিল্পমালিকদের হিমশিম খেতে হবে। এতে শ্রমিক অসন্তোষের পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”

উৎপাদন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কারখানার শ্রমিকরা। নিয়মিত কাজ না থাকায় অনেক শ্রমিক কারখানায় এসে বসে থাকছেন। কেউ কেউ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত থাকলেও আগের মতো আয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এক শ্রমিক বলেন, “কারখানায় কাজ বন্ধ থাকায় নিয়মিত আয় করতে পারছি না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে কারখানা চালু করা হোক, এটাই আমাদের দাবি। আরেক শ্রমিক বলেন, “কারখানায় এসে কাজ না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে। আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত উৎপাদন শুরু হোক। আরেক শ্রমিকের ভাষ্য, “আমরা কাজ করেই সংসার চালাই। কারখানা বন্ধ থাকলে শুধু মালিক নয়, আমাদের পরিবারগুলোও সমস্যায় পড়ে। গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

আরও পড়ুনঃ  মিসেস মাম্যাচিংকে গণসংবর্ধনা, বান্দরবানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আনন্দ মিছিল

নরসিংদীতে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাকসুদ রহমান বলেছেন, “এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে নরসিংদী ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নরসিংদী জেলা সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এমএমকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুল মোমেন মোল্লা বলেছেন, “সাধারণত সিএনজি স্টেশনগুলোতে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু, সম্প্রতি কোনো কোনো দিন চাপ ০ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, নরসিংদীর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি টেক্সটাইল, ডাইং, সাইজিংসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, জেলায় ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭৫টি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৭৭ মানুষ।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শ্রমিকদের আয়, শিল্পমালিকদের বিনিয়োগ, ব্যাংক ঋণ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।