Dhaka ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চুনারুঘাট চন্ডিছড়া চা বাগানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বড়গাছীর মথুরায় জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ, মাওলানা নুরুজ্জামানের গণসংযোগ সিরাজগঞ্জে ঠিকাদারকে মারপিট করে পৌনে দুই লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় মামলা সুন্দরবনের জয়মনি এলাকায় কুমিরের আক্রমনে এক নারীর মৃত্যু ​শতভাগ রোভার জেলার স্বীকৃতি পেল কিশোরগঞ্জ, স্কাউটিংয়ে নতুন মাইলফলক। হোসেনপুরে ব্র্যাকের বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা বিতরণ, স্বাবলম্বী হবেন প্রান্তিক নারীরা তারেক রহমান ও মোরশেদ মিল্টনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাজাহানপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন ​বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ঢাবি: ভোরেই বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ উপভোগে হাজারো দর্শক কালিয়াকৈর গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও এলাকা পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

গাইবান্ধায় অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নুয়ে পড়েছে পাকা ধান

আঃ রাজ্জাক সরকার স্টাফ রিপোটার: গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত। বছরের প্রধান ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

 

​সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে বৃষ্টির ঝাপটায় ধান গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ঋণ করে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। গাছ নুয়ে পড়ায় এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙা ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন, পুনর্বাসনের আশায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমান

​একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা। ফলে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩-৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। কাদা আর পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকরা অনীহা প্রকাশ করছেন।গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কয়েক শত হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কেটে ফেলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সাঘাটা ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

 

​প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফসহ বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

আরও পড়ুনঃ  এক হাজার চারা রোপণের অঙ্গীকার নিয়ে জ্যোতি ফোরামের ৭ম সবুজ অভিযান সম্পন্ন।
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চুনারুঘাট চন্ডিছড়া চা বাগানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

গাইবান্ধায় অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নুয়ে পড়েছে পাকা ধান

আপডেটের সময়: ০৪:০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আঃ রাজ্জাক সরকার স্টাফ রিপোটার: গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত। বছরের প্রধান ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

 

​সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে বৃষ্টির ঝাপটায় ধান গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ঋণ করে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। গাছ নুয়ে পড়ায় এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

​একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা। ফলে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩-৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। কাদা আর পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকরা অনীহা প্রকাশ করছেন।গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কয়েক শত হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কেটে ফেলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রুমায় আগুনে ছাই ৫ দোকান: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে রুমা জোন

 

​প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফসহ বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

আরও পড়ুনঃ  ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করল ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ