Dhaka ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার কাউনিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান কুলাউড়ায় বেদখলে থাকা ২৯ শতক সরকারি জমি উদ্ধার ফরিদগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ পুলিশের জালে আটক মান্দায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সভা, পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি টিপুর মতবিনিময় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ধর্মীয় অনুসাশনের সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ জ্ঞানই প্রকৃত শিক্ষা : আসলাম চৌধুরী লালপুরে তেলের দোকানে ও ফিলিং স্টেশনে বিএসটিআই-এর অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সংসদ ভবন লেকে ২৫০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করলেন স্পিকার লক্ষ্মীপুরে ২ কোটি দেন, সব সই করে দেবো: পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী

কোম্পানীগঞ্জে অপরাধের লাগাম টানছে না কেউ

আবদুল আজিজ সায়েম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, সরকারি সম্পদ লুট, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় মানুষ এখন নিজেদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম বড় উদাহরণ হলো চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি। প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, দোকানপাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। রাতে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে না, আবার দিনের বেলাতেও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো সভ্য ও নিরাপদ সমাজের জন্য কাম্য হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সরকারি সম্পদ লুটপাটের অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বালু উত্তোলন ও সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের কথা থাকলেও অসাধু চক্রের কারণে তা ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান। স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত। আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোরদের অনেকেই সঠিক পারিবারিক ও সামাজিক তদারকির বাইরে চলে যাচ্ছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে এই সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ না থাকলে এসব সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি সমাজে অপরাধ যখন বাড়তে থাকে, তখন শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সম্প্রীতিও হুমকির মুখে পড়ে। তাই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চায়। অপরাধ ও অস্থিরতার এই চিত্র থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না। সময় এসেছে অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানোর এবং কোম্পানীগঞ্জকে আবারও একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার।

লেখক:
গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠক

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

কোম্পানীগঞ্জে অপরাধের লাগাম টানছে না কেউ

আপডেটের সময়: ০৩:০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আবদুল আজিজ সায়েম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, সরকারি সম্পদ লুট, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় মানুষ এখন নিজেদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম বড় উদাহরণ হলো চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি। প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, দোকানপাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। রাতে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে না, আবার দিনের বেলাতেও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো সভ্য ও নিরাপদ সমাজের জন্য কাম্য হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সরকারি সম্পদ লুটপাটের অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বালু উত্তোলন ও সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের কথা থাকলেও অসাধু চক্রের কারণে তা ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান। স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত। আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোরদের অনেকেই সঠিক পারিবারিক ও সামাজিক তদারকির বাইরে চলে যাচ্ছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে এই সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ না থাকলে এসব সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি সমাজে অপরাধ যখন বাড়তে থাকে, তখন শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সম্প্রীতিও হুমকির মুখে পড়ে। তাই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চায়। অপরাধ ও অস্থিরতার এই চিত্র থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না। সময় এসেছে অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানোর এবং কোম্পানীগঞ্জকে আবারও একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার।

লেখক:
গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠক