Dhaka ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস চট্টগ্রামে ১২ রবিউল আউয়ালে ধর্মীয় আবহে মুখর নগরী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত তারাগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত মাদক কারবারি মোতাহার গ্রেফতার নবদিয়ায় ফুটবল ম্যাচে অগ্নি সেনা স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্দান্ত জয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলবে বিএনপি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শিশুদের উন্নত চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হবে শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল: ডা. পাভেল ঈদগাঁওয়ে ইয়াবা সেবনকালে সরঞ্জামাদিসহ ৪ জন আটক কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ড আবেদন ভোলায় ১৪০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫১ বোতল ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২

‎কালিয়াকৈরে বনভূমি কর্মকর্তার মাসোহারা মাসে আড়াই লাখ টাকা

এসকে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে পাঁচ বন বিট থেকে প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল হাসান শাকিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কথিত এই টাকা পৌঁছে গেলে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা, বনভূমি দখল কিংবা অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে রেঞ্জ পর্যায়ে তেমন হস্তক্ষেপ করা হয় না। আর টাকা পৌঁছাতে বিলম্ব হলেই শুরু হয় তৎপরতা—এমন দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন কর্মকর্তারা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরেই দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বনজ সম্পদ ধ্বংসের নানা অভিযোগে আলোচিত। এর মধ্যেই রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পাঁচটি বিট অফিসকে ঘিরে ওঠা মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে।

‎অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের অধীন চন্দ্রা বনবিট থেকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা, মৌচাক বনবিট থেকে ৬০ হাজার, বাড়ইপাড়া বিট অফিস থেকে ৪০ হাজার, বোয়ালী বনবিট থেকে ৪০ হাজার এবং রঘুনাথপুর বিট অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কথিত মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি বিট থেকে প্রতি মাসে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তারাই প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এসব টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা পৌঁছাতে কোনো কারণে একদিনও বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকায় অবৈধ দখল বা স্থাপনার বিষয়ে হঠাৎ করেই তৎপর হয়ে ওঠেন রেঞ্জ কর্মকর্তা এমন অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মকর্তার ভাষ্য, কথিত মাসোহারা দেওয়ার মাধ্যমে মূলত বিট এলাকায় চলমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রেঞ্জ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ থেকে এক ধরনের ‘সুরক্ষা’ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের মারধর ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, থানায় এজাহার


‎তার দাবি, কোনো বিট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চললেও সেটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না করলে রেঞ্জ কর্মকর্তা অনেক সময় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার পক্ষে ব্যাখ্যা বা প্রতিবেদন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়মিত কথিত মাসোহারার বাইরে সংরক্ষিত বনভূমির পাশে বা বনভূমিতে বড় ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর কিংবা বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর একটি উদাহরণ হিসেবে চন্দ্রা বনবিটের ভুলুয়া মৌজার একটি বাড়ি নির্মাণের ঘটনা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।সূত্রটির দাবি, ভুলুয়া এলাকায় আমিন ভাঙ্গারীর বাড়ির বিপরীত পাশে সাইফুলের দোকানের সাথেই শাকিল নামে এক ব্যক্তি বনভূমির জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার একটি লেনদেন করেন। এর মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তার জন্য নিয়মিত মাসোহারার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের উন্নত চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হবে শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল: ডা. পাভেল


‎পরে বাকি টাকা সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরীদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে এমন দাবিও করেছেন সূত্রটি। বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণ। অথচ দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যদি নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকানোর প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে কোনো এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পরও যদি তা দীর্ঘদিন বহাল থাকে এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিটের নথি, উচ্ছেদ কার্যক্রমের রেকর্ড, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কথিত মাসোহারার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিটের কর্মকর্তাদের সম্পদ, আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য এবং প্রতি মাসে রেঞ্জ কার্যালয়ে যাতায়াতের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  বড়াইগ্রামে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ


‎তবে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন বিভাগীয় তদন্ত। বিশেষ করে কথিত মাসোহারা প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ এবং বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের নথি যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক ও কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল হাসান শাকিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল এর বন সংরক্ষক এ. এস. এম. জহির উদ্দিন আকন বলেন, আমি বাগান পরিদর্শনে রয়েছি, আপনি তথ্যগুলো আমার হোয়াটসঅ্যাপ এ পাঠিয়ে দিন। তদন্তের মাধ্যমে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস

‎কালিয়াকৈরে বনভূমি কর্মকর্তার মাসোহারা মাসে আড়াই লাখ টাকা

আপডেটের সময়: ০৬:৩৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

এসকে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে পাঁচ বন বিট থেকে প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল হাসান শাকিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কথিত এই টাকা পৌঁছে গেলে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা, বনভূমি দখল কিংবা অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে রেঞ্জ পর্যায়ে তেমন হস্তক্ষেপ করা হয় না। আর টাকা পৌঁছাতে বিলম্ব হলেই শুরু হয় তৎপরতা—এমন দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন কর্মকর্তারা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরেই দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বনজ সম্পদ ধ্বংসের নানা অভিযোগে আলোচিত। এর মধ্যেই রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পাঁচটি বিট অফিসকে ঘিরে ওঠা মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে।

‎অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের অধীন চন্দ্রা বনবিট থেকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা, মৌচাক বনবিট থেকে ৬০ হাজার, বাড়ইপাড়া বিট অফিস থেকে ৪০ হাজার, বোয়ালী বনবিট থেকে ৪০ হাজার এবং রঘুনাথপুর বিট অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কথিত মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি বিট থেকে প্রতি মাসে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তারাই প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এসব টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা পৌঁছাতে কোনো কারণে একদিনও বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকায় অবৈধ দখল বা স্থাপনার বিষয়ে হঠাৎ করেই তৎপর হয়ে ওঠেন রেঞ্জ কর্মকর্তা এমন অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মকর্তার ভাষ্য, কথিত মাসোহারা দেওয়ার মাধ্যমে মূলত বিট এলাকায় চলমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রেঞ্জ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ থেকে এক ধরনের ‘সুরক্ষা’ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মোরেলগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড


‎তার দাবি, কোনো বিট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চললেও সেটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না করলে রেঞ্জ কর্মকর্তা অনেক সময় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার পক্ষে ব্যাখ্যা বা প্রতিবেদন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়মিত কথিত মাসোহারার বাইরে সংরক্ষিত বনভূমির পাশে বা বনভূমিতে বড় ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর কিংবা বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর একটি উদাহরণ হিসেবে চন্দ্রা বনবিটের ভুলুয়া মৌজার একটি বাড়ি নির্মাণের ঘটনা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।সূত্রটির দাবি, ভুলুয়া এলাকায় আমিন ভাঙ্গারীর বাড়ির বিপরীত পাশে সাইফুলের দোকানের সাথেই শাকিল নামে এক ব্যক্তি বনভূমির জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার একটি লেনদেন করেন। এর মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তার জন্য নিয়মিত মাসোহারার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন : জশনে জুলুসে লাখো মানুষের ঢল


‎পরে বাকি টাকা সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরীদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে এমন দাবিও করেছেন সূত্রটি। বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণ। অথচ দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যদি নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকানোর প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে কোনো এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পরও যদি তা দীর্ঘদিন বহাল থাকে এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিটের নথি, উচ্ছেদ কার্যক্রমের রেকর্ড, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কথিত মাসোহারার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিটের কর্মকর্তাদের সম্পদ, আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য এবং প্রতি মাসে রেঞ্জ কার্যালয়ে যাতায়াতের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  বড়াইগ্রামে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ


‎তবে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন বিভাগীয় তদন্ত। বিশেষ করে কথিত মাসোহারা প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ এবং বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের নথি যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক ও কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল হাসান শাকিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল এর বন সংরক্ষক এ. এস. এম. জহির উদ্দিন আকন বলেন, আমি বাগান পরিদর্শনে রয়েছি, আপনি তথ্যগুলো আমার হোয়াটসঅ্যাপ এ পাঠিয়ে দিন। তদন্তের মাধ্যমে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।