Dhaka ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ৫ যুবক আটক ২শত টাকার জন্য হত্যা পুলিশের অভিযানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ চিলমারীতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে মানব বন্ধন নিরাপত্তার আশ্বাস ও ৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কারের পর শজিমেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ধুনটে বিস্ফোরক, ভাঙচুর ও নাশকতা মামলায় ৩ আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার। কাউনিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ‌

ঈদ উৎসব ঘিরে ব্যস্ত নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসব মানেই আনন্দ আর মিলনমেলা। আর সেটি যদি ঈদ হয়, তা হলে তো কথাই নেই। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা- সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে থাকে অনেক অদৃশ্য প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা, যার বড় অংশটাই নীরবে সামলান পরিবারের নারীরা। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে রান্না, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পরিবারের সবার প্রয়োজনের খেয়াল রাখা- সবকিছুতেই তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। ঈদের আগে এবং ঈদের দিন- দুই সময়েই তাদের দায়িত্ব যেন একটু বেশিই বেড়ে যায়। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয় ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার ধুম। আলমারি গোছানো, পর্দা ধোয়া, ঘরের জিনিসপত্র নতুন করে সাজানো- সবকিছুতেই থাকে বাড়তি যত্ন। যেন পুরো ঘরটাই নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে উৎসব ঘিরে। এর সঙ্গে যোগ হয় কেনাকাটা শেষ করা, নতুন কাপড় গুছিয়ে রাখা, শিশুদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঠিক আছে কি না তা খেয়াল রাখা। ঈদের আগের দিন রাত জেগে মসলা বাটা, পেঁয়াজ-রসুন কাটা এবং পরদিনের জন্য নানারকম পিঠা ও খাবারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা আনন্দের, ততটাই পরিশ্রমেরও।

আরও পড়ুনঃ  বাস্তবের সঙ্গে কাগজে-কলমেও কমছে ইলিশ

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মায়মুনা আক্তার বলেন, অফিসের কাজের পাশাপাশি ঈদের প্রস্তুতিও নিতে হয়। এবার যেহেতু ছুটি আগেই শুরু হয়ে গেছে, তাই ঘর গোছানো বা বাজারের তালিকা তৈরি করা- এসব কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তবে পরিবারের সবাইকে খুশি দেখতে পারলে ক্লান্তি অনেকটাই ভুলে যাই। তার কথায় উঠে আসে এক পরিচিত বাস্তবতা- দুই দিক সামলানোর চাপে ক্লান্তি থাকলেও পরিবারের হাসিমুখই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ঈদ মানেই বিশেষ খাবারের আয়োজন। আর রান্নাঘর তখন হয়ে ওঠে সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা। সেমাই, পোলাও, কোরমা, কাবাব কিংবা নানা ধরনের মিষ্টান- প্রতিটি পদেই থাকে নারীদের যত্ন আর সৃজনশীলতা। অনেকেই আবার নতুন নতুন রেসিপি চেষ্টা করেন, যাতে পরিবারের সবাই একটু ভিন্ন স্বাদ পায়। গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, ঈদের দিন পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাই- এই মুহূর্তটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাই চেষ্টা করি একটু ভিন্ন কিছু রান্না করতে। কখনো ইউটিউব দেখে নতুন ডেজার্ট বানাই, কখনো পুরোনো রেসিপিকে একটু নতুনভাবে পরিবেশন করি। তার এই চেষ্টা আসলে অনেক নারীরই প্রতিদিনের গল্প- পরিবার খুশি রাখার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

 

ঈদের দিন ভোর থেকেই শুরু হয় নতুন ব্যস্ততা। সকালে নাশতার প্রস্তুতি, অতিথিদের জন্য খাবার তৈরি, বাচ্চাদের তৈরি করা সব মিলিয়ে সময় যেন দ্রুত চলে যায়। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা যখন ঈদের নামাজে যান, তখন অনেক নারী রান্নাঘরেই ব্যস্ত থাকেন, যাতে সবাই ফিরে এসে গরম গরম খাবার পান। শিক্ষক শারমিন পারভীন বলেন, ঈদের দিন সকালটায় নাশতা বানানো, অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত- সব মিলিয়ে সময় কখন চলে যায় বুঝতেই পারি না। তবে যখন সবাই মিলে বসে খাই আর গল্প করি, তখন মনে হয় পরিশ্রমটা সার্থক। এই অনুভূতিটাই সব ক্লান্তিকে ছাপিয়ে যায়। তবে সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে পরিবারের ভেতরের দায়িত্ববোধও। এখন অনেক পরিবারেই ঈদের প্রস্তুতিতে সবাই মিলে অংশ নেন। কেউ বাজার করেন, কেউ রান্নায় সাহায্য করেন, কেউ আবার ঘর গুছিয়ে দেন। এতে নারীদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে এবং উৎসবের আনন্দও হয় আরও ভাগাভাগি। ডা. রুমী বলেন, ঈদের আনন্দ যেন পরিবারের সবার জন্য সমান হয়, সে জন্য দায়িত্বও ভাগাভাগি হওয়া দরকার। তাতে উৎসবের আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনি নারীরাও কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পান। পারিবারিক বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়। ঈদের আলো আর আনন্দের ভেতরেও তাই নারীদের এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ তাদের যত্ন, পরিকল্পনা আর নিরলস শ্রমেই একটি পরিবারের ঈদ হয়ে ওঠে সুন্দর, উজ্জ্বল ও আনন্দময়।

আরও পড়ুনঃ  হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

ঈদ উৎসব ঘিরে ব্যস্ত নারী

আপডেটের সময়: ০৫:৫০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসব মানেই আনন্দ আর মিলনমেলা। আর সেটি যদি ঈদ হয়, তা হলে তো কথাই নেই। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা- সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে থাকে অনেক অদৃশ্য প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা, যার বড় অংশটাই নীরবে সামলান পরিবারের নারীরা। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে রান্না, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পরিবারের সবার প্রয়োজনের খেয়াল রাখা- সবকিছুতেই তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। ঈদের আগে এবং ঈদের দিন- দুই সময়েই তাদের দায়িত্ব যেন একটু বেশিই বেড়ে যায়। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয় ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার ধুম। আলমারি গোছানো, পর্দা ধোয়া, ঘরের জিনিসপত্র নতুন করে সাজানো- সবকিছুতেই থাকে বাড়তি যত্ন। যেন পুরো ঘরটাই নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে উৎসব ঘিরে। এর সঙ্গে যোগ হয় কেনাকাটা শেষ করা, নতুন কাপড় গুছিয়ে রাখা, শিশুদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঠিক আছে কি না তা খেয়াল রাখা। ঈদের আগের দিন রাত জেগে মসলা বাটা, পেঁয়াজ-রসুন কাটা এবং পরদিনের জন্য নানারকম পিঠা ও খাবারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা আনন্দের, ততটাই পরিশ্রমেরও।

আরও পড়ুনঃ  নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মায়মুনা আক্তার বলেন, অফিসের কাজের পাশাপাশি ঈদের প্রস্তুতিও নিতে হয়। এবার যেহেতু ছুটি আগেই শুরু হয়ে গেছে, তাই ঘর গোছানো বা বাজারের তালিকা তৈরি করা- এসব কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তবে পরিবারের সবাইকে খুশি দেখতে পারলে ক্লান্তি অনেকটাই ভুলে যাই। তার কথায় উঠে আসে এক পরিচিত বাস্তবতা- দুই দিক সামলানোর চাপে ক্লান্তি থাকলেও পরিবারের হাসিমুখই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ঈদ মানেই বিশেষ খাবারের আয়োজন। আর রান্নাঘর তখন হয়ে ওঠে সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা। সেমাই, পোলাও, কোরমা, কাবাব কিংবা নানা ধরনের মিষ্টান- প্রতিটি পদেই থাকে নারীদের যত্ন আর সৃজনশীলতা। অনেকেই আবার নতুন নতুন রেসিপি চেষ্টা করেন, যাতে পরিবারের সবাই একটু ভিন্ন স্বাদ পায়। গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, ঈদের দিন পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাই- এই মুহূর্তটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাই চেষ্টা করি একটু ভিন্ন কিছু রান্না করতে। কখনো ইউটিউব দেখে নতুন ডেজার্ট বানাই, কখনো পুরোনো রেসিপিকে একটু নতুনভাবে পরিবেশন করি। তার এই চেষ্টা আসলে অনেক নারীরই প্রতিদিনের গল্প- পরিবার খুশি রাখার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ  দেশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়াচ্ছে

 

ঈদের দিন ভোর থেকেই শুরু হয় নতুন ব্যস্ততা। সকালে নাশতার প্রস্তুতি, অতিথিদের জন্য খাবার তৈরি, বাচ্চাদের তৈরি করা সব মিলিয়ে সময় যেন দ্রুত চলে যায়। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা যখন ঈদের নামাজে যান, তখন অনেক নারী রান্নাঘরেই ব্যস্ত থাকেন, যাতে সবাই ফিরে এসে গরম গরম খাবার পান। শিক্ষক শারমিন পারভীন বলেন, ঈদের দিন সকালটায় নাশতা বানানো, অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত- সব মিলিয়ে সময় কখন চলে যায় বুঝতেই পারি না। তবে যখন সবাই মিলে বসে খাই আর গল্প করি, তখন মনে হয় পরিশ্রমটা সার্থক। এই অনুভূতিটাই সব ক্লান্তিকে ছাপিয়ে যায়। তবে সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে পরিবারের ভেতরের দায়িত্ববোধও। এখন অনেক পরিবারেই ঈদের প্রস্তুতিতে সবাই মিলে অংশ নেন। কেউ বাজার করেন, কেউ রান্নায় সাহায্য করেন, কেউ আবার ঘর গুছিয়ে দেন। এতে নারীদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে এবং উৎসবের আনন্দও হয় আরও ভাগাভাগি। ডা. রুমী বলেন, ঈদের আনন্দ যেন পরিবারের সবার জন্য সমান হয়, সে জন্য দায়িত্বও ভাগাভাগি হওয়া দরকার। তাতে উৎসবের আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনি নারীরাও কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পান। পারিবারিক বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়। ঈদের আলো আর আনন্দের ভেতরেও তাই নারীদের এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ তাদের যত্ন, পরিকল্পনা আর নিরলস শ্রমেই একটি পরিবারের ঈদ হয়ে ওঠে সুন্দর, উজ্জ্বল ও আনন্দময়।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু