
মোঃ নাহিদ চৌধুরী, কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি ,গাজীপুর: বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যকে ঘিরে বাহিনীর সদস্যদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সহায়ক বাহিনীর সদস্যদের মিলনমেলায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, প্রাণচাঞ্চল্য এবং নতুন প্রত্যাশার বার্তা। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সমাবেশটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বাহিনীর সদস্যদের অনুপ্রেরণা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। কুচকাওয়াজ, আনুষ্ঠানিক সালাম গ্রহণ, বাহিনীর দক্ষতা প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দিনটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য। বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা, একাগ্রতা এবং দায়িত্ববোধ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে আনসার বাহিনীর সদস্যরা সবসময় সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করেছেন, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আনসার বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সততা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তার বক্তব্যে তিনি বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, আনসার বাহিনী শুধু একটি বাহিনী নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও জনসেবার একটি শক্তিশালী অংশীদার। তাদের ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সদস্যদের মাঝে তার বক্তব্য ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেক সদস্য মনে করেন, জাতীয় এই সমাবেশে এমন বক্তব্য তাদের দায়িত্ব পালনে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের মতে, এই ধরনের সমাবেশ বাহিনীর সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করে তোলে। ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও প্রদর্শনীতে বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ ও দক্ষতা ফুটে ওঠে। সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নিয়ে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। সমাবেশে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কয়েকজন সদস্যকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। অন্য সদস্যরাও সহকর্মীদের এই অর্জনে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকট, দুর্যোগ কিংবা জাতীয় প্রয়োজনে আনসার বাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আনসার বাহিনীর সদস্যদের আরও দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং বক্তব্য বাহিনীর সদস্যদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এতে বাহিনীর সদস্যরা দেশের সেবা ও জনগণের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং বাহিনীর অতীত সাফল্য, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে সদস্যদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়িয়েছে। তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্য এই সমাবেশকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদকের নাম 
























