
মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় চক্রটির মূলহোতা মো. মোজাম্মেল হক কবিরকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম জেলা।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রামের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। মামলায় বাদীর পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে তাদের বিশ্বাস অর্জনের পর গাড়ি ভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করত তারা।
পিবিআই জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এভাবে প্রতারণা করে আসছিল। আদালত থেকে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগের বিবরণও জেনে নিত তারা। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের কাছে নিজেদের প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত।
প্রতারকদের বিষয়ে পিবিআইয়ের প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। তবে প্রতারকরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করতে জটিলতা দেখা দেয়।
সর্বশেষ পিবিআই চট্টগ্রামের এসআই মো. আবু সুফিয়ানের তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে তদন্তের নামে টাকা নেওয়ার ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা হওয়ার পর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হক কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়
প্রতিবেদকের নাম 


















