
মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের বিম তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের বিম ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কিউরিং (রক্ষণাবেক্ষণ) করা হচ্ছে না। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার,জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় শিক্ষা প্রটোকল-৫০ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার বড়দাপ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্যানিটারি, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়ন কাজসহ ৪ তলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলতি বছরের ১৯ জুন শুরু হয়। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ধরা হয় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাপ হোসেন।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ভবনের বিম নির্মাণের পর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ধরে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া এবং চটের বস্তা বা অন্য উপকরণ দিয়ে ঢেকে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে কংক্রিট দ্রুত শুকিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে নির্মাণের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা নিম্নমানের কাজ যেন না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। কাজের প্রতিটি ধাপ প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের বিমের নির্মাণের কাজ চলমাম রয়েছে। তবে বিম নির্মাণের পর কংক্রিটকে আর্দ্র রাখার জন্য কী ধরনের কিউরিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ, রডের পরিমাণ, কংক্রিটের মিশ্রণ এবং ঢালাই-পরবর্তী কিউরিং নির্ধারিত প্রকৌশলগত নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু নির্মাণকাজে যদি মান বজায় না রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র জানান, ভবন নির্মাণের কাজের কারিগরি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ দেখভাল করছে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ভবনের বিম নির্মাণের পর নিয়ম অনুযায়ী চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কিউরিং (রক্ষণাবেক্ষণ) করা হয়নি এবং আমার চোখেও পড়েনি৷ যখন দেখলাম বিম নির্মাণ করা হচ্ছে তখন বিমের উপর কোনো চটের বস্তা দেওয়া হয়নি৷ তাই দ্বায়িত্বে থাকা সাব ইন্জিনিয়ারি ও ঠিকাদারকে ফোন করে অবগত করেছি তারা চটের বস্তা দিয়ে বিমের টেকসইয়ের জন্য কাজ করার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাপ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মতামত পাওয়া যায়নি। তবে সাব-ঠিকাদার মোঃ শহীদ জানান, বৃষ্টির কারণে চটের বস্তা দেওয়া হয়নি। তবে আমাদের লোকজন ইতোমধ্যে চটের বস্তা কিনতে গেছে। অতি শিগগিরই সব ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাব এসিস্ট্যান্ট ইন্জিনিয়ার শ্রীমন্ত বাবু জানান, বিম নির্মাণের পর সেটার দায়িত্ব ধরে রাখার জন্য চটের বস্তা দেওয়াটা আবশ্যক। সাধারণত বিমগুলো পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। শুধু পানি ছিটিয়ে দিলেই হবেনা। বিম যেন পর্যাপ্ত মানুষ পানি শোষণ করতে পারে সেজন্য চটের বস্তা দেওয়া নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কি কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেটা দেয়নি আমরা দু’একদিনের মধ্যে তদারকি করে চটের বস্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কংক্রিটের বিম বা ঢালাই কাজের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়মিত পানি দিয়ে কিউরিং করা নির্মাণকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ কিউরিং না হলে কংক্রিটের শক্তি ও স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। শুধু চটের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিই নির্মাণমান নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। বরং ঢালাইয়ের পর কংক্রিটকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যথাযথভাবে আর্দ্র রাখা হচ্ছে কি না এবং প্রকল্পের অনুমোদিত কারিগরি নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি নির্দেশনা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















