Dhaka ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফরিদপুরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আলোচনা সভা ও মঙ্গল ‌ শোভাযাত্রা নারায়ণগঞ্জে ট্রাক চাপায় নারী পোশাকশ্রমিকের করুণ মৃত্যুতে উত্তাল শ্রমিক সংগঠন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ফরিদপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের শোভাযাত্রা সীমানা পেরিয়ে নতুন ইতিহাস: হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম নৈশকালীন আলট্রা ম্যারাথন। দোয়ার মাহফিলের নামে ডেকে নিয়ে ভিডিও ধারণ, মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইলিং বধির বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে বগুড়ায় দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, আহত প্রতিমন্ত্রী দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ৫ যুবক আটক ২শত টাকার জন্য হত্যা পুলিশের অভিযানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা

জিহাদুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ সরওয়ার, বিপিএম-সেবা বলেছেন, ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার—এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গত ১ মে ২০২৬ তারিখ থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের তাৎক্ষণিক যাচাই অন্তে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরি মাঠের কোনা সংলগ্ন রাস্তা বেহাল: এসিল্যান্ড অফিসে আসা হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ ​

 

 

তিনি আরও বলেন, ডিবির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সংগঠিত অপরাধে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।বাজার, টার্মিনাল, কাঁচাবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত।এছাড়া মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় ডিএমপি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অপরাধপ্রবণ নতুন নতুন এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

 

এছাড়াও আগামী দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা রাজধানীব্যাপী আরও জোরালো, তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবো। এর মধ্যে থাকবে—
১. চাঁদাবাজি প্রতিরোধে হটস্পটভিত্তিক নজরদারি বৃদ্ধি।
২. মাদক নির্মূলে নিয়মিত ব্লক রেইড ও বিশেষ চেকপোস্ট।
৩. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রসারণ।
৪. সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সমন্বিত অপারেশন।
৫. সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জুয়া দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং
৬. অপরাধপ্রবণ এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী করা।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়—অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম, মাইকিং, লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ডিএমপি বিশ্বাস করে—অপরাধ দমন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একক কাজ নয়; এটি একটি সমন্বিত সামাজিক দায়িত্ব। তাই আমরা নাগরিক অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আপনাদের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন সমাজকে সচেতন করে, অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ: এলজিআরডি মন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ একা নয়—নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে তথ্যদাতা সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখা হবে।

শান্তি ও শৃঙ্খলার শত্রু যারা, তাদের কোনো ছাড় নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়—তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তায় সর্বদা জাগ্রত, দৃঢ় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস, এন, মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফরিদপুরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আলোচনা সভা ও মঙ্গল ‌ শোভাযাত্রা

অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা

আপডেটের সময়: ০৫:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জিহাদুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ সরওয়ার, বিপিএম-সেবা বলেছেন, ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার—এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গত ১ মে ২০২৬ তারিখ থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের তাৎক্ষণিক যাচাই অন্তে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরি মাঠের কোনা সংলগ্ন রাস্তা বেহাল: এসিল্যান্ড অফিসে আসা হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ ​

 

 

তিনি আরও বলেন, ডিবির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সংগঠিত অপরাধে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।বাজার, টার্মিনাল, কাঁচাবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত।এছাড়া মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় ডিএমপি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অপরাধপ্রবণ নতুন নতুন এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয় বড় সমস্যা

 

এছাড়াও আগামী দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা রাজধানীব্যাপী আরও জোরালো, তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবো। এর মধ্যে থাকবে—
১. চাঁদাবাজি প্রতিরোধে হটস্পটভিত্তিক নজরদারি বৃদ্ধি।
২. মাদক নির্মূলে নিয়মিত ব্লক রেইড ও বিশেষ চেকপোস্ট।
৩. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রসারণ।
৪. সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সমন্বিত অপারেশন।
৫. সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জুয়া দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং
৬. অপরাধপ্রবণ এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী করা।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়—অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম, মাইকিং, লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ডিএমপি বিশ্বাস করে—অপরাধ দমন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একক কাজ নয়; এটি একটি সমন্বিত সামাজিক দায়িত্ব। তাই আমরা নাগরিক অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আপনাদের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন সমাজকে সচেতন করে, অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ একা নয়—নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে তথ্যদাতা সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখা হবে।

শান্তি ও শৃঙ্খলার শত্রু যারা, তাদের কোনো ছাড় নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়—তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তায় সর্বদা জাগ্রত, দৃঢ় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস, এন, মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম উপস্থিত ছিলেন।