
নিজস্ব প্রতিবেদক, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের হাজী মমতাজ কেরানি বাড়ির ওমানপ্রবাসী আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে প্রথম সংসারের সন্তানদের অবহেলা, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং সম্পত্তি বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তিনি প্রথম সংসারের সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে উদাসীন হয়ে পড়েন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আব্দুল কাদের দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম সংসারে তার চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী তার আগের সংসারের একটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে এ পরিবারে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার পূর্বের সংসারের কন্যাকে নিয়ে বসবাস করলেও প্রথম সংসারের সন্তানদের, বিশেষ করে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না। এছাড়া নিজের সম্পত্তির বড় একটি অংশ দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথম সংসারের প্রায় ৩৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তাকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রতিবন্ধী ওই নারীর যথাযথ ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও বিয়ের বিষয়েও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রতিবন্ধী ওই নারীর দাবি, “আমার বাবা আমার কোনো খোঁজখবর নেন না। মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো রকমে জীবন চালাই। আমার মা রেখে যাওয়া একটি ছোট্ট আশ্রয়েই দিন কাটছে।
এদিকে এলাকায় আলোচনা রয়েছে, প্রথম সংসারের সন্তানদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই মামলাটি প্রথম সংসারের সন্তানদের হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দিলেও তা কার্যকর হয়নি।এ ঘটনায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্রথম সংসারের সন্তানদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















