Dhaka ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধুনট-সোনামুখী সড়কে বিকল বালুর ট্রাক, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড, ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার বাঘায় হাসুয়ার কোপে গৃহবধূ নিহত, স্বামী পলাতক ব্রিটিশ হাইকমিশনারের আমন্ত্রণে নৈশভোজে রাসিক প্রশাসক দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু মাটি ভরাটের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়নের শুভ সূচনা লালপুরে রাস্তায় অবৈধ বাজার বসিয়ে যানজট বরদাশত করা হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর বাঘায় ১২৫ বোতল ফেয়ারডিলসহ তিনজন গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জ তেঘরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত: তৃণমূলকে শক্তিশালী করার আহ্বান সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠান আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রংপুরে আসছে পুলিশের বিশেষ কিউআরটি টিম

লামায় রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের জায়গায় ঘর নির্মাণে বাধা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৫ সময় দেখুন

জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান: বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গা পাড়ায় মায়ের দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক ও রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র মূলে প্রাপ্ত নিজস্ব দখলীয় ভিটেবাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামায় দায়েরকৃত পিটিশন মামলা নম্বর– ৭০/২০২৬ (ধারা: ১৪৫ কার্যবিধি)-তে ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান-এর বৈধ জায়গা নিয়ে বিরোধের অজুহাতে, শুধুমাত্র তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার জেরে ভিন্ন ভিন্ন এলাকার তিন নির্দোষ বাসিন্দাকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মামলার পেছনে রয়েছে গভীর পারিবারিক প্রতিহিংসা। মামলার ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তারের সম্পত্তি আত্মসাতের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্প্রতি তার ভাই মোঃ কবির হোসেন এবং ভাতিজা মোঃ সাদ্দাম হোসেনের (মামলার বাদী) বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। নিজের আপন বোন ও ফুফুর সম্পত্তি গ্রাস করার এই অপচেষ্টায় বাধা দেওয়া এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ভাই কবির হোসেন ও ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন। সেই পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত ক্ষোভের জের ধরে এবং সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান, ২নং বিবাদী মোঃ আমির হোসেন, ৪নং বিবাদী জোহরা বেগম এবং ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন ও সাজানো মামলার জাল বুনেছে বাদী সাদ্দাম হোসেন।

আরও পড়ুনঃ  ব্রিটিশ হাইকমিশনারের আমন্ত্রণে নৈশভোজে রাসিক প্রশাসক

 

মামলার বিবরণ ও জমিজমার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় তার মা সাহেরা খাতুনের দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৬নং ওয়ার্ডের পুরনো ঘরভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। শুধু তাই নয়, মা সাহেরা খাতুন নিজে উপজেলা নির্বাহী অফিসে (ইউএনও অফিস) সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক সম্পত্তিটি ছেলে শাহজাহানের নামে বৈধভাবে দানপত্র (হেবা) করে দেন, যা যথাযথ নিয়ম মেনে রেজিস্টার ভুক্ত বা রেজিস্ট্রি করা হয়। সম্পূর্ণ বৈধ কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের দখলীয় এই পুরনো ও জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙে সম্প্রতি শাহজাহান যখন নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন, ঠিক তখনই বাদী পক্ষ ঘর নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে এবং বৈধ জায়গাটি বিতর্কিত করতে আদালতে এই ১৪৫ ধারার পিটিশন মামলা দায়ের করে।

 

 

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহানের ঘর নির্মাণ বা জেসমিন আক্তারের সম্পত্তির এই বিষয়ের সাথে মোঃ আমির হোসেন এবং জোহরা বেগম কোনোভাবেই জড়িত নন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২নং বিবাদী মোঃ আমির হোসেন ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও ৪নং বিবাদী জোহরা বেগম ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়ার এবং ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তার সম্পূর্ণ ভিন্ন এলাকা অর্থাৎ রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নালিশী ভূমির সীমানা বা মালিকানার সাথে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আত্মীয়তার কারণে তাদেরকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত,

 

ভুক্তভোগী আসামিরা জানান, “১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান ও জেসমিন আক্তার আমাদের আত্মীয় হন। শাহজাহানের মা সাহেরা খাতুনের ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক ও রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র মূলে পাওয়া বৈধ জায়গায় ঘর তোলা এবং জেসমিন আক্তারের সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া—এই দুটি বিষয়ের ক্ষোভ থেকে বাদী পক্ষ আক্রোশবশত আমাদেরকে এই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। যেখানে আমরা ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের বাসিন্দা, সেখানে ওই জায়গার বিরোধের সাথে আমাদের নাম জড়ানোই প্রমাণ করে এই মামলাটি কতটা কাল্পনিক ও ভুয়া।”
ভুক্তভোগী মোঃ আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোঃ শাহজাহান তার মা সাহেরা খাতুনের রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র পাওয়া বহু বছরের পুরনো দখলীয় ভিটার জরাজীর্ণ ঘর ভেঙে নতুন ঘর তুলছেন। সেখানে ঘর তোলার সাথে বা আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র শাহজাহানের আত্মীয় হওয়ার অপরাধে এবং আমরা ভিন্ন এলাকায় বসবাস করা সত্ত্বেও সমাজে আমাদের মানহানি করা এবং আমাদেরকে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যে এই ভুয়া মামলায় আমাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রকাশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রতিকার চাই।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীর পবায় আশ্রয়কেন্দ্রের রাস্তার বেহাল অবস্থা: চরম দুর্ভোগে ১২টি পরিবার

 

নারী ভুক্তভোগী জোহরা বেগম ও জেসমিন আক্তার বলেন, “একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের মতো ভিন্ন এলাকার নির্দোষ নারীদেরও আসামী করতে দ্বিধাবোধ করেনি। আত্মীয়তার সম্পর্ককে পুঁজি করে এভাবে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন মিথ্যা মামলা করার সাহস না পায়। এলাকাবাসীর মতে, ১ নম্বর আসামির রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দানপত্রের বিষয় কিংবা অভ্যন্তরীণ সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয় লুকাতে আত্মীয়তার জেরে ভিন্ন এলাকার সম্পর্কহীন ও নিরীহ মানুষদের আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা সুস্পষ্টভাবে আইনের অপব্যবহার এবং একটি পরিকল্পিত হয়রানি। উল্লেখ্য, গত ০২/০৯/২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামা-কে বিষয়টি সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞ আদালতের কাছে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলার বাদী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে বা তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধুনট-সোনামুখী সড়কে বিকল বালুর ট্রাক, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি

লামায় রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের জায়গায় ঘর নির্মাণে বাধা

আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান: বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গা পাড়ায় মায়ের দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক ও রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র মূলে প্রাপ্ত নিজস্ব দখলীয় ভিটেবাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামায় দায়েরকৃত পিটিশন মামলা নম্বর– ৭০/২০২৬ (ধারা: ১৪৫ কার্যবিধি)-তে ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান-এর বৈধ জায়গা নিয়ে বিরোধের অজুহাতে, শুধুমাত্র তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার জেরে ভিন্ন ভিন্ন এলাকার তিন নির্দোষ বাসিন্দাকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মামলার পেছনে রয়েছে গভীর পারিবারিক প্রতিহিংসা। মামলার ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তারের সম্পত্তি আত্মসাতের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্প্রতি তার ভাই মোঃ কবির হোসেন এবং ভাতিজা মোঃ সাদ্দাম হোসেনের (মামলার বাদী) বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। নিজের আপন বোন ও ফুফুর সম্পত্তি গ্রাস করার এই অপচেষ্টায় বাধা দেওয়া এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ভাই কবির হোসেন ও ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন। সেই পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত ক্ষোভের জের ধরে এবং সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান, ২নং বিবাদী মোঃ আমির হোসেন, ৪নং বিবাদী জোহরা বেগম এবং ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন ও সাজানো মামলার জাল বুনেছে বাদী সাদ্দাম হোসেন।

আরও পড়ুনঃ  লামায় রাতের আঁধারে বনের কাঠ পাচার: রেঞ্জ কর্মকর্তার সামনেই ট্রাক বোঝাই, একাধিকবার ফোনেও মেলেনি সাড়া

 

মামলার বিবরণ ও জমিজমার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় তার মা সাহেরা খাতুনের দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৬নং ওয়ার্ডের পুরনো ঘরভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। শুধু তাই নয়, মা সাহেরা খাতুন নিজে উপজেলা নির্বাহী অফিসে (ইউএনও অফিস) সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক সম্পত্তিটি ছেলে শাহজাহানের নামে বৈধভাবে দানপত্র (হেবা) করে দেন, যা যথাযথ নিয়ম মেনে রেজিস্টার ভুক্ত বা রেজিস্ট্রি করা হয়। সম্পূর্ণ বৈধ কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের দখলীয় এই পুরনো ও জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙে সম্প্রতি শাহজাহান যখন নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন, ঠিক তখনই বাদী পক্ষ ঘর নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে এবং বৈধ জায়গাটি বিতর্কিত করতে আদালতে এই ১৪৫ ধারার পিটিশন মামলা দায়ের করে।

 

 

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহানের ঘর নির্মাণ বা জেসমিন আক্তারের সম্পত্তির এই বিষয়ের সাথে মোঃ আমির হোসেন এবং জোহরা বেগম কোনোভাবেই জড়িত নন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২নং বিবাদী মোঃ আমির হোসেন ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও ৪নং বিবাদী জোহরা বেগম ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়ার এবং ৫নং বিবাদী জেসমিন আক্তার সম্পূর্ণ ভিন্ন এলাকা অর্থাৎ রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নালিশী ভূমির সীমানা বা মালিকানার সাথে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আত্মীয়তার কারণে তাদেরকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীর পবায় আশ্রয়কেন্দ্রের রাস্তার বেহাল অবস্থা: চরম দুর্ভোগে ১২টি পরিবার

 

ভুক্তভোগী আসামিরা জানান, “১ নম্বর আসামি মোঃ শাহজাহান ও জেসমিন আক্তার আমাদের আত্মীয় হন। শাহজাহানের মা সাহেরা খাতুনের ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক ও রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র মূলে পাওয়া বৈধ জায়গায় ঘর তোলা এবং জেসমিন আক্তারের সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া—এই দুটি বিষয়ের ক্ষোভ থেকে বাদী পক্ষ আক্রোশবশত আমাদেরকে এই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। যেখানে আমরা ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের বাসিন্দা, সেখানে ওই জায়গার বিরোধের সাথে আমাদের নাম জড়ানোই প্রমাণ করে এই মামলাটি কতটা কাল্পনিক ও ভুয়া।”
ভুক্তভোগী মোঃ আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোঃ শাহজাহান তার মা সাহেরা খাতুনের রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র পাওয়া বহু বছরের পুরনো দখলীয় ভিটার জরাজীর্ণ ঘর ভেঙে নতুন ঘর তুলছেন। সেখানে ঘর তোলার সাথে বা আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র শাহজাহানের আত্মীয় হওয়ার অপরাধে এবং আমরা ভিন্ন এলাকায় বসবাস করা সত্ত্বেও সমাজে আমাদের মানহানি করা এবং আমাদেরকে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যে এই ভুয়া মামলায় আমাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রকাশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রতিকার চাই।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীর স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের আভাস, ১০১ শয্যার উদ্যোগ

 

নারী ভুক্তভোগী জোহরা বেগম ও জেসমিন আক্তার বলেন, “একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের মতো ভিন্ন এলাকার নির্দোষ নারীদেরও আসামী করতে দ্বিধাবোধ করেনি। আত্মীয়তার সম্পর্ককে পুঁজি করে এভাবে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন মিথ্যা মামলা করার সাহস না পায়। এলাকাবাসীর মতে, ১ নম্বর আসামির রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দানপত্রের বিষয় কিংবা অভ্যন্তরীণ সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয় লুকাতে আত্মীয়তার জেরে ভিন্ন এলাকার সম্পর্কহীন ও নিরীহ মানুষদের আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা সুস্পষ্টভাবে আইনের অপব্যবহার এবং একটি পরিকল্পিত হয়রানি। উল্লেখ্য, গত ০২/০৯/২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামা-কে বিষয়টি সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞ আদালতের কাছে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলার বাদী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে বা তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।