Dhaka ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত ইরানের না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুমকি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এসব শর্ত মেনে না নিলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজায়ি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন তেহরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য সাতটি শর্ত জানানোর কথা উল্লেখ করেন। তবে ইরানের ওই সাতটি শর্তের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। রেজায়ি প্রকাশ্যে যে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

 

রেজায়ি বলেন, এসব শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল হবে না এবং ইরান ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এই বার্তায় একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের আগ্রহ ও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে এসেছে। রেজায়ি নতুন করে মার্কিন হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ওয়াশিংটনের নতুন হামলার আশঙ্কা এখনো রয়েছে এবং তেহরান সে পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। রেজায়ি জানান, আগের দুই দফা সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত এলাকায় থাকা মার্কিন নৌ-সম্পদ এখন তাদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানবাহী রণতরীর কাছে বহুমুখী ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন রেজায়ি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  মেধা ও যোগ্যতার যেকোনো অর্জনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

 

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মার্কিন কোম্পানিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ পুনরায় চালুর জন্য কাতার ও পাকিস্তান কাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে আগের একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ গত মাসে শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেজায়ি বলেন, বাস্তবতার বিচারে যুদ্ধ এখনো চলছে। তবে নতুন কৌশলের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরান কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রেজায়ি। তিনি জানান, তেহরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইরানকে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ধর্মীয় নির্দেশনা বা ফতোয়া এখনো বহাল রয়েছে বলেও জানান।

আরও পড়ুনঃ  সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন: নাহিদ ইসলাম

 

ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্ত পাঠানোর এই দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। তবে ওয়াশিংটন এসব শর্ত কীভাবে গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব জানা যায়নি। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত ইরানের না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুমকি

আপডেটের সময়: ০৩:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এসব শর্ত মেনে না নিলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজায়ি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন তেহরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য সাতটি শর্ত জানানোর কথা উল্লেখ করেন। তবে ইরানের ওই সাতটি শর্তের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। রেজায়ি প্রকাশ্যে যে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।

আরও পড়ুনঃ  ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চের প্রস্তুতি

 

রেজায়ি বলেন, এসব শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল হবে না এবং ইরান ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এই বার্তায় একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের আগ্রহ ও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে এসেছে। রেজায়ি নতুন করে মার্কিন হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ওয়াশিংটনের নতুন হামলার আশঙ্কা এখনো রয়েছে এবং তেহরান সে পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। রেজায়ি জানান, আগের দুই দফা সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত এলাকায় থাকা মার্কিন নৌ-সম্পদ এখন তাদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানবাহী রণতরীর কাছে বহুমুখী ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন রেজায়ি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  কোথায় চড়ুইয়ের সেই কিচিরমিচির

 

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মার্কিন কোম্পানিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ পুনরায় চালুর জন্য কাতার ও পাকিস্তান কাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে আগের একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ গত মাসে শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেজায়ি বলেন, বাস্তবতার বিচারে যুদ্ধ এখনো চলছে। তবে নতুন কৌশলের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরান কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রেজায়ি। তিনি জানান, তেহরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইরানকে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ধর্মীয় নির্দেশনা বা ফতোয়া এখনো বহাল রয়েছে বলেও জানান।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

 

ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্ত পাঠানোর এই দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। তবে ওয়াশিংটন এসব শর্ত কীভাবে গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব জানা যায়নি। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা