
তানবীরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে চট্টগ্রামে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বস্তাপ্রতি চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ডাল, আটা ও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকিতে প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এ সুযোগে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের একটি অংশ সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে প্রতিদিনই বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা।
বাজারের বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে। তবে কী কারণে সরবরাহ কমেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তাদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
অন্যদিকে পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ের একাধিক চাল ব্যবসায়ী জানান, সম্প্রতি পরিবহণ মালিকরা ট্রাক ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ঢাকার বিভিন্ন গুদাম থেকে চট্টগ্রামে চাল পরিবহণে ট্রাকভাড়া লাগত ১৭ থেকে ২১ হাজার টাকা। বর্তমানে একই রুটে গুনতে হচ্ছে ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ রুটেও চাল পরিবহণে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।
চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বস্তাপ্রতি চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে এবং বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 





















