Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরের মাদারগঞ্জে সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস: সিরাজগঞ্জে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ, ডাবল লাইনের দাবি ​ বিশ্ব স্টোক দিবস আজ, সচেতনতাই পারে বাঁচাতে জীবন কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১ মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত লালপুরে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে ধান ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি রাজশাহীর পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীর প্রশংসায় নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ডের ডেপুটি মেয়র কাজিপুরের গান্ধাইল ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব চট্টগ্রামে সফর উপলক্ষে সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ( জামান )

প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের মুখে পিপলাকান্দি স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ

নাজমুল ফয়েজ টুটল হোসেনপুর  (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তার বেতন বন্ধ করে দিলেও থামেনি তার স্বেচ্ছাচারিতা। উল্টো বেতন বন্ধের পর থেকে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির মাত্রা আরও জেঁকে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে ২০ জনই তার স্থায়ী অব্যাহতি দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক কাউকে তোয়াক্কা না করে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছিলেন। কখনো স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরু মিয়া, কখনো সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আবার কখনো অ্যাডহক কমিটির সভাপতির রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ: জাল ও সরঞ্জাম আগুন দিয়ে ধ্বংস

 

​২০২৪ সালে এক অভিভাবক বিদ্যালয়ের আর্থিক লুটপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে মাউশি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নানা অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
​ভুয়া শিক্ষক ও এনটিআরসিএ শিক্ষকদের অর্থ আত্মসাৎ
​অভিযোগে প্রকাশ, আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করে অর্থের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন-ভাতার নামে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের পকেটে ভরেছেন প্রধান শিক্ষক।এছাড়া এনটিআরসিএ (NTRCA) কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্মানী ভাতাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের নিয়মিত আয়—যেমন ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করছেন।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি জাকিয়া নূর লিপির ছত্রছায়ায় থেকে যারা প্রতিবাদ করেছিলেন, সেই শিক্ষকদের নাজেহাল করেছিলেন এই প্রধান শিক্ষক। তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতারাতি সুর পাল্টে ফেলেছেন তিনি। নিজেকে রক্ষা করতে কট্টর আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষক এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৩ জেলের কারাদণ্ড, এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস

​
​বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন ও অসদাচরণ করা হতো। বর্তমানে তার সাথে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী তার স্থায়ী অপসারণ চান।এদিকে, প্রধান শিক্ষকের লাগামহীন অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক কার কাছ থেকে ছুটি নেন, তা শিক্ষা অফিস জানে না।এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তাকে স্থানীয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উচ্চমহলে লিখিতভাবে সুপারিশ পাঠানো হবে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস: সিরাজগঞ্জে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ, ডাবল লাইনের দাবি ​

 

​​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “টেলিফোনে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি নই। কিছু জানতে চাইলে বিদ্যালয়ে আসতে হবে।” তবে সংবাদদাতারা একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়েও তার কোনো হদিস পাননি এবং তার কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি তহবিল তছরুপের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের মুখে পিপলাকান্দি স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ

আপডেটের সময়: ০৩:০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নাজমুল ফয়েজ টুটল হোসেনপুর  (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তার বেতন বন্ধ করে দিলেও থামেনি তার স্বেচ্ছাচারিতা। উল্টো বেতন বন্ধের পর থেকে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির মাত্রা আরও জেঁকে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে ২০ জনই তার স্থায়ী অব্যাহতি দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক কাউকে তোয়াক্কা না করে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছিলেন। কখনো স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরু মিয়া, কখনো সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আবার কখনো অ্যাডহক কমিটির সভাপতির রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  আটোয়ারীতে যুব দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

 

​২০২৪ সালে এক অভিভাবক বিদ্যালয়ের আর্থিক লুটপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে মাউশি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নানা অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
​ভুয়া শিক্ষক ও এনটিআরসিএ শিক্ষকদের অর্থ আত্মসাৎ
​অভিযোগে প্রকাশ, আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করে অর্থের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন-ভাতার নামে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের পকেটে ভরেছেন প্রধান শিক্ষক।এছাড়া এনটিআরসিএ (NTRCA) কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্মানী ভাতাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের নিয়মিত আয়—যেমন ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করছেন।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি জাকিয়া নূর লিপির ছত্রছায়ায় থেকে যারা প্রতিবাদ করেছিলেন, সেই শিক্ষকদের নাজেহাল করেছিলেন এই প্রধান শিক্ষক। তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতারাতি সুর পাল্টে ফেলেছেন তিনি। নিজেকে রক্ষা করতে কট্টর আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষক এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় গিদারী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৬

​
​বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন ও অসদাচরণ করা হতো। বর্তমানে তার সাথে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী তার স্থায়ী অপসারণ চান।এদিকে, প্রধান শিক্ষকের লাগামহীন অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক কার কাছ থেকে ছুটি নেন, তা শিক্ষা অফিস জানে না।এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তাকে স্থানীয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উচ্চমহলে লিখিতভাবে সুপারিশ পাঠানো হবে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে পৃথক অভিযানে অনলাইন জুয়া ও হ্যাকিং চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল উদ্ধার

 

​​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “টেলিফোনে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি নই। কিছু জানতে চাইলে বিদ্যালয়ে আসতে হবে।” তবে সংবাদদাতারা একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়েও তার কোনো হদিস পাননি এবং তার কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি তহবিল তছরুপের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।