Dhaka ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াঘাটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ব্যবহার অনুপযোগী, চার বছর ধরে অস্থায়ী কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৪ সময় দেখুন

মো:রিফাত হোসেন ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন প্রায় চার বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ফলে নিজস্ব ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কেন্দ্রটির কার্যক্রম। প্রথমে প্রায় এক বছর ভাড়া বাসায় এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।
জানা যায়, ১৯৭৭-৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির মূল ভবন ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র পাওয়া যায়নি।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ২টা ৫৬ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম নেই। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে ভাড়া বাসায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অস্থায়ী ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প নয়। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলীসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ভবন বন্ধ দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই বর্তমানে কেন্দ্রটির কার্যক্রম কোথায় চলছে, তা জানেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা. হাসনে আরা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈশা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এখনো নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুনঃ  সাভারের ওয়েস্টার্ন ভ্যালিতে রাজউকের অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঘোড়াঘাটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ব্যবহার অনুপযোগী, চার বছর ধরে অস্থায়ী কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা

আপডেটের সময়: ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো:রিফাত হোসেন ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন প্রায় চার বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ফলে নিজস্ব ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কেন্দ্রটির কার্যক্রম। প্রথমে প্রায় এক বছর ভাড়া বাসায় এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।
জানা যায়, ১৯৭৭-৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির মূল ভবন ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র পাওয়া যায়নি।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ২টা ৫৬ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম নেই। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে ভাড়া বাসায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অস্থায়ী ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প নয়। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলীসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ভবন বন্ধ দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই বর্তমানে কেন্দ্রটির কার্যক্রম কোথায় চলছে, তা জানেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা. হাসনে আরা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈশা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এখনো নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুনঃ  অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি: তীব্র তাপপ্রবাহে শীতল হলো রাজধানী ঢাকা সহ কেরানীগঞ্জ