Dhaka ১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ ভিকটিম উদ্ধার রাজশাহীর বাঘায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ১ জনের মৃত্যু, গুরুতর আহত ১ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি দক্ষিণ পুলিশ ভেদরগঞ্জে সচেতন মা, আপনি সেরা মা—শ্রেষ্ঠ অভিভাবক পুরস্কার ২০২৬ ধামইরহাটে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআনবিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা: ইসলামী সমাজ লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ভয়ে থমকে আছে গাজীপুরে বন উদ্ধার পত্নীতলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন, ভারতকে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ সহযোগিতা বাইরের কোনো প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি তিস্তা অববাহিকার অবস্থানের কারণে ঢাকা-বেইজিংয়ের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পটির ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ভারতের কৌশলগত সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন যথাসাধ্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী চীন। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।

আরও পড়ুনঃ  শান্তির রাজনীতি চান প্রধানমন্ত্রী,সংসদের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে বিরোধী দল

তিনি বলেন, এ বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। আগের আলোচনার তুলনায় এবার বিষয়টি আরও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে চীন সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে বলেও জানিয়েছে। তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের ঘোষণা আসে, সেদিকে ভারতের নিবিড় নজর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই হয়। এর মাধ্যমে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদীর অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) কাছাকাছি। এ এলাকায় চীনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  লংমার্চে ৫-৬ হাজারের বদলে যাবে এক হাজার গাড়ি: এনসিপি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ ভিকটিম উদ্ধার

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন, ভারতকে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের

আপডেটের সময়: ০৮:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ সহযোগিতা বাইরের কোনো প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি তিস্তা অববাহিকার অবস্থানের কারণে ঢাকা-বেইজিংয়ের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পটির ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ভারতের কৌশলগত সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন যথাসাধ্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী চীন। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।

আরও পড়ুনঃ  লংমার্চে ৫-৬ হাজারের বদলে যাবে এক হাজার গাড়ি: এনসিপি

তিনি বলেন, এ বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। আগের আলোচনার তুলনায় এবার বিষয়টি আরও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে চীন সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে বলেও জানিয়েছে। তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের ঘোষণা আসে, সেদিকে ভারতের নিবিড় নজর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই হয়। এর মাধ্যমে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদীর অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) কাছাকাছি। এ এলাকায় চীনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বাস্তবের সঙ্গে কাগজে-কলমেও কমছে ইলিশ