Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নীলফামারীতে জুলাইয়ের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এনসিপির ফুলবাড়ীতে বিজিবির অভিযানে মাদক, মোটরসাইকেল ও সিরাপ জব্দ, আটক ১ মাগুরায় খেলার ফাঁকে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের কাজিপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি সেলিম রেজা হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রথম এডহক কমিটির সভা,বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত নাচোলে নানা আয়োজনে দূর্ণীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত ঈশ্বরদীতে মাদক মামলায় এক ব্যাক্তির ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড নাগরিক সেবা হাতের মুঠোয়: ঢাকা জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের যাত্রা শুরু প্রস্তাবিত স্থানেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ, শব্দদূষণ রোধে ডিএমপির কঠোর অভিযান

ডিমলায় প্রশাসনের অভিযানও ব্যর্থ: তিস্তায় বেপরোয়া পাথর সিন্ডিকেট

আরিফ ইসলাম আলাল,ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি: প্রশাসনের একাধিক অভিযান, মোবাইল কোর্ট, পাথর জব্দ ও নিয়মিত মামলা—কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী চক্রকে। বরং সাময়িক বিরতির পর নতুন জনবল নিয়ে আরও সংগঠিতভাবে মাঠে নেমেছে সিন্ডিকেটগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ক্যামেরার আড়ালে কিংবা প্রকাশ্যেই নিষেধাজ্ঞা কার্যত উপেক্ষা করে প্রভাবশালী চক্রগুলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ​স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত প্রায় তিন মাস ধরে তিস্তা নদী ও সংলগ্ন এলাকায় আবারও ব্যাপকভাবে পাথর উত্তোলন চলছে। তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন এলাকা, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, দোহলপাড়া, কালীগঞ্জ ও ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১৭টি সক্রিয় টিম এবং ১৫টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দোহলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় শ্রমিকরা লোহার তৈরি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি করে পাথর উত্তোলন করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে তেলির বাজার ও ছোটখাতা এলাকাতেও। উত্তোলিত পাথর শতাধিক নৌকায় বোঝাই করে এনে পরে ট্রাক্টরযোগে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে তিস্তা সেচ খালের ধারে স্তূপ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকেই তা বিক্রি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন হবে মানুষের স্বার্থে এম,পি সৈয়দ মোঃ ফয়সল

 

​স্থানীয়দের ভাষ্য, চলন্ত নৌকার শ্যালো ইঞ্জিনের পাখা দিয়ে নদীর তলদেশের বালু সরিয়ে নিচ থেকে পাথর তুলে আনা হয়। পরে স্থানীয় সিন্ডিকেট প্রতি সিএফটি পাথর মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ​নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, নির্বিচারে এভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে ডিমলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মফিজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া এলাকায় আমার নিজস্ব জমিতে ১০ থেকে ১২টি শ্যালোচালিত নৌকায় নিয়মিত পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নদীতীরের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “অবৈধ পাথর উত্তোলন করে একটি চক্র রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছে, আর আমরা ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছি। প্রতিবছর নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই চক্রের কোনো বিচার হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  নীলফামারীতে জুলাইয়ের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এনসিপির

 

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। আমাদের মূল দায়িত্ব নদী রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা। জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ, আর্থিক জরিমানা এবং একাধিক মামলাও করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গেছেন, আবার অনেকে পলাতক রয়েছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  প্রস্তাবিত স্থানেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ,
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নীলফামারীতে জুলাইয়ের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এনসিপির

ডিমলায় প্রশাসনের অভিযানও ব্যর্থ: তিস্তায় বেপরোয়া পাথর সিন্ডিকেট

আপডেটের সময়: ০৬:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আরিফ ইসলাম আলাল,ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি: প্রশাসনের একাধিক অভিযান, মোবাইল কোর্ট, পাথর জব্দ ও নিয়মিত মামলা—কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী চক্রকে। বরং সাময়িক বিরতির পর নতুন জনবল নিয়ে আরও সংগঠিতভাবে মাঠে নেমেছে সিন্ডিকেটগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ক্যামেরার আড়ালে কিংবা প্রকাশ্যেই নিষেধাজ্ঞা কার্যত উপেক্ষা করে প্রভাবশালী চক্রগুলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ​স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত প্রায় তিন মাস ধরে তিস্তা নদী ও সংলগ্ন এলাকায় আবারও ব্যাপকভাবে পাথর উত্তোলন চলছে। তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন এলাকা, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, দোহলপাড়া, কালীগঞ্জ ও ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১৭টি সক্রিয় টিম এবং ১৫টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দোহলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় শ্রমিকরা লোহার তৈরি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি করে পাথর উত্তোলন করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে তেলির বাজার ও ছোটখাতা এলাকাতেও। উত্তোলিত পাথর শতাধিক নৌকায় বোঝাই করে এনে পরে ট্রাক্টরযোগে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে তিস্তা সেচ খালের ধারে স্তূপ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকেই তা বিক্রি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

 

​স্থানীয়দের ভাষ্য, চলন্ত নৌকার শ্যালো ইঞ্জিনের পাখা দিয়ে নদীর তলদেশের বালু সরিয়ে নিচ থেকে পাথর তুলে আনা হয়। পরে স্থানীয় সিন্ডিকেট প্রতি সিএফটি পাথর মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ​নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, নির্বিচারে এভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে ডিমলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মফিজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া এলাকায় আমার নিজস্ব জমিতে ১০ থেকে ১২টি শ্যালোচালিত নৌকায় নিয়মিত পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নদীতীরের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “অবৈধ পাথর উত্তোলন করে একটি চক্র রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছে, আর আমরা ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছি। প্রতিবছর নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই চক্রের কোনো বিচার হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  বরিশালে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম

 

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। আমাদের মূল দায়িত্ব নদী রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা। জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ, আর্থিক জরিমানা এবং একাধিক মামলাও করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গেছেন, আবার অনেকে পলাতক রয়েছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  বরিশালে চড়া মাছের দাম, সবজি-মাংসে স্বস্তি