
মোঃ শরিফ হোসেন ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কাজ শুরু হলেও, খননকৃত মাটি রাস্তার পাশে ও খালের পাড়ে স্তূপ করে রাখায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে স্তূপ করা মাটি গলে পাকা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের কালিরটেক বাজার থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত ‘লালন খাল’ খননের কাজ গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খনন কাজে দুটি ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের শুরুতে খালের ওপরের অংশের নরম মাটি ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও, পরবর্তী অংশের মাটি খালের পাড় ও চলাচলের প্রধান সড়কের পাশেই রাখা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে স্তূপকৃত মাটি গলে পাকা সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পুরো রাস্তা পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত হয়ে জনচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া খালের পাড়ে মাটি রাখায় কয়েকটি পরিবারের বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে ওইসব পরিবারের সদস্যরা অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দা নাসির, রুবেল ও ফকরুদ্দিন বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকালে ঠিকাদার মাটি সরিয়ে নিলেও দুপুরের পর থেকে তা রাস্তার পাশে জমা করতে শুরু করেন। এখন বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি পিচ্ছিল হয়ে রাস্তায় চলে আসায় রিকশা বা মোটরসাইকেল দূরে থাক, পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদার রাজিব জানান, “শুরুতে আমরা নিজ উদ্যোগে মাটি সরিয়ে নিচ্ছিলাম যাতে খালের ক্ষতি না হয়। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, ইউএনও স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী এই মাটি অন্যত্র নেওয়া যাবে না। ভিজিটের সুবিধার জন্য এবং সরকারি নিলামের জন্য মাটি খালের পাশেই রাখতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।”উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমাদ্দার বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে সামান্য সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। এই মাটিগুলো সরকারিভাবে নিলাম করা হবে, তাই আপাতত অন্য কোথাও রাখার সুযোগ নেই। এ কারণেই খালের পাড়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দ্রুত সড়ক থেকে এই মাটি অপসারণ এবং খালের পাড় সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জনদুর্ভোগ লাঘবে তারা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















