
মাসুদ রানা মাসুম, কক্সবাজার ও পার্বত্য ব্যুরো
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একই কোম্পানির দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১0 যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন যাত্রী হাত-পা হারিয়ে পঙ্গুত্বের পথে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে লোহাগাড়ার ‘হোটেল ফোর সিজন’ এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। মহাসড়কের একই কোম্পানির ‘মারসা পরিবহন’-এর দুটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসার সময় প্রচণ্ড গতিতে একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়। একই কোম্পানির বাস হওয়া সত্ত্বেও গতির প্রতিযোগিতার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘর্ষের ফলে বাস দুটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে একটি অপরটির ভেতরে ঢুকে যায়।
ঘটনাস্থলেই ১০ মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা জানান, বাসের ভেতর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যাত্রীদের বের করে আনা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে অনেকেরই হাত বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা পুরো এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। চমেক হাসপাতালে জরুরি ভর্তি গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে তাদের অবস্থা। আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে অধিকাংশকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। লোহাগাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “একই কোম্পানির দুটি বাস কীভাবে এমন ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালকদের গাফিলতি বা যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদকের নাম 


















