
নড়াইল প্রতিনিধিঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কারো প্রতি অবিচার বা বেইনসাফি করা হবে না। আজ শুক্রবার বিকালে নড়াইলে সদর উপজেলার বয়েস স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে সম্পদের অভাব নেই, কিন্তু সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন, তাদের চারিত্রিক সম্পদের বড় অভাব। সমাজের মাথা পচে আছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে সদিচ্ছা এবং সততার অভাবেই মানুষ স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালে দুবার দেশ স্বাধীন হলেও ৫৪ বছরে কেন সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা পূরণ হলো না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যারা রাজনীতিকে ব্যবসার পণ্য মনে করে, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল করতে পারবে না। পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক দিয়ে জামায়াত আমির বলেন এ দেশের মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস চায়। আমরা বাংলাদেশকে আমূল পরিবর্তন করতে চাই। আগামী ১২ তারিখ জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। বীররা পিঠে নয়, বুকে গুলি নেয় উল্লেখ করে তিনি নেতা-কর্মীদের সাহসের সঙ্গে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ইনসাফ কায়েমের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জামায়াত কেবল নিজের দলের বিজয় চায় না, বরং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। আমরা ক্ষমতায় এলে বিচার হবে সবার জন্য সমান। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার হবে, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার হবে। আগামী গণভোট প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা গোলামি চাই না, আমরা আজাদি চাই। তাই আজাদির স্বার্থে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে হবে। কোনো চিল-শকুন যেন সাধারণ মানুষের একটি ভোটও কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। সবশেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেবো। জামায়াতে ইসলামী সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। nবক্তব্য শেষে তিনি নড়াইলের দুটি আসনে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়েতের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপালা তুলে দেন।
প্রতিবেদকের নাম 






















