Dhaka ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক ইউপি সদস্য আটক ভুয়া হেডম্যান সেজে জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা: লামার হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি বেলকুচি কারিগরি ইনস্টিটিউটে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো সমাপনী রংপুরে রেস্টুরেন্টে অভিযান, দুই তরুণ-দুই তরুণীসহ পাঁচজন আটক নাটোর লালপুরে রাস্তার ওপর মাছের দোকান: মাছ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নুরুজ্জামান লিটনের একান্ত সাক্ষাৎ ১২সেপ্টেম্বর ধুনটে আসছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান সৌদিতে শতাধিক শ্রমিকের কোটি টাকা বকেয়া: সবুর খানের বিরুদ্ধে আত্মসাত ও হুমকির অভিযোগ সিংড়ায় সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ভুয়া হেডম্যান সেজে জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা: লামার হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪২ সময় দেখুন

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজায় জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ভুয়া দলিল ও ভুয়া মালিক দেখিয়ে জমি বিক্রিতে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাজিরাম ত্রিপুরা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হাজিরাম ত্রিপুরা ওই মৌজার মৃত দেওয়াইশিং ত্রিপুরার ছেলে।স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাজিরাম ত্রিপুরা নিজেকে ডলুছড়ি মৌজার ‘হেডম্যান’ (মৌজা প্রধান) দাবি করে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অবৈধভাবে মধ্যস্থতা করে আসছেন। খতিয়ান, নামজারি ও আসল দলিলসহ ভূমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে তিনি সরল অধিবাসীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।সরই ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাংকম কারবারি পাড়া, কামরিং ম্রো পাড়া এবং রেংইন কারবারি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেরিডিয়ান কোম্পানি ও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে স্থানীয় নিরীহ মানুষের জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হাজিরাম ত্রিপুরা বিভিন্ন কৌশলে ভুয়া মালিক সাজিয়ে কোম্পানিগুলোকে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। জমি ও মালিকানা সংক্রান্ত এই জালিয়াতির কারণে নেটনং ম্রো (৩৯), রিংরং ম্রো (৪৫) ও খামারেং ম্রো (৫৫)-সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা চরম আর্থিক ও ভূমি সংক্রান্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন।সাবেক হেডম্যানের বিস্ফোরক অভিযোগ ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজার সাবেক হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার কাছ থেকে হেডম্যানের দায়িত্ব জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ভুয়া অভিযোগ ছড়ানো হয়। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ করতে পারত না। এই প্রতারককে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।” তিনি আরও জানান, পুরো মৌজাবাসী এখন এই জালিয়াতি চক্রের শাস্তি দাবি করছে।গোপনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগএদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া থেকে গোপনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজের অপরাধ ঢাকতে বা আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে টংগ্যাঝিরি পাড়া, সবুজায়ন পাড়া ও কোম্পানিয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা থেকে কৌশলে মানুষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্বাক্ষরগুলো কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তা কোথায় ব্যবহার করা হবে—সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে। সংশ্লিষ্ট জমির মূল দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের নথি এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জমি কেনাবেচার আর্থিক লেনদেন যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাজিরাম ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে তাঁর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য বা অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক ইউপি সদস্য আটক

ভুয়া হেডম্যান সেজে জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা: লামার হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

আপডেটের সময়: ১১:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজায় জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ভুয়া দলিল ও ভুয়া মালিক দেখিয়ে জমি বিক্রিতে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাজিরাম ত্রিপুরা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হাজিরাম ত্রিপুরা ওই মৌজার মৃত দেওয়াইশিং ত্রিপুরার ছেলে।স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাজিরাম ত্রিপুরা নিজেকে ডলুছড়ি মৌজার ‘হেডম্যান’ (মৌজা প্রধান) দাবি করে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অবৈধভাবে মধ্যস্থতা করে আসছেন। খতিয়ান, নামজারি ও আসল দলিলসহ ভূমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে তিনি সরল অধিবাসীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।সরই ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাংকম কারবারি পাড়া, কামরিং ম্রো পাড়া এবং রেংইন কারবারি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেরিডিয়ান কোম্পানি ও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে স্থানীয় নিরীহ মানুষের জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হাজিরাম ত্রিপুরা বিভিন্ন কৌশলে ভুয়া মালিক সাজিয়ে কোম্পানিগুলোকে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। জমি ও মালিকানা সংক্রান্ত এই জালিয়াতির কারণে নেটনং ম্রো (৩৯), রিংরং ম্রো (৪৫) ও খামারেং ম্রো (৫৫)-সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা চরম আর্থিক ও ভূমি সংক্রান্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন।সাবেক হেডম্যানের বিস্ফোরক অভিযোগ ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজার সাবেক হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার কাছ থেকে হেডম্যানের দায়িত্ব জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন

এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ভুয়া অভিযোগ ছড়ানো হয়। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ করতে পারত না। এই প্রতারককে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।” তিনি আরও জানান, পুরো মৌজাবাসী এখন এই জালিয়াতি চক্রের শাস্তি দাবি করছে।গোপনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগএদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া থেকে গোপনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজের অপরাধ ঢাকতে বা আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে টংগ্যাঝিরি পাড়া, সবুজায়ন পাড়া ও কোম্পানিয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা থেকে কৌশলে মানুষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্বাক্ষরগুলো কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তা কোথায় ব্যবহার করা হবে—সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে। সংশ্লিষ্ট জমির মূল দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের নথি এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জমি কেনাবেচার আর্থিক লেনদেন যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাজিরাম ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে তাঁর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য বা অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি