
রিজন আহমেদ মোস্তফা (কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি): সৌদি আরবে শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রায় ৮ কোটি টাকা বকেয়া বেতন আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভৈরবের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম সবুর খান। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রসুলপুর গ্রামের খান বাড়ির মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সবুর খান সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজে লাগাতেন। কাজের বিনিময়ে কোম্পানি থেকে শ্রমিকদের পাওনা টাকা তার মাধ্যমে পরিশোধ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অঙ্কের বেতন বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। ভুক্তভোগীদের দাবি, শতাধিক শ্রমিকের কারও দুই মাস, কারও তিন মাস, আবার কারও ছয় মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় ৮ কোটি টাকার মতো পাওনা আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ, ঋণের কিস্তি এবং প্রবাসে থাকা-খাওয়ার খরচ চালাতে গিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শ্রমিক শরীফুল ইসলাম, আরিফ, উসমান মিয়া ও অলি উল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পাওনা বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। বারবার টাকা চাইলেও নানা অজুহাত ও টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তারা আরও অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে সবুর খান তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তাদের বেতন পরিশোধের পর সৌদি আরবে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন কয়েকজন শ্রমিক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সবুর খান। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কাছে তার ৮ কোটি টাকা নয়, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। হুমকির অভিযোগের বিষয়েও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন দ্রুত আদায়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















