Dhaka ০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক ইউপি সদস্য আটক ভুয়া হেডম্যান সেজে জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা: লামার হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি বেলকুচি কারিগরি ইনস্টিটিউটে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো সমাপনী রংপুরে রেস্টুরেন্টে অভিযান, দুই তরুণ-দুই তরুণীসহ পাঁচজন আটক নাটোর লালপুরে রাস্তার ওপর মাছের দোকান: মাছ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নুরুজ্জামান লিটনের একান্ত সাক্ষাৎ ১২সেপ্টেম্বর ধুনটে আসছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান সৌদিতে শতাধিক শ্রমিকের কোটি টাকা বকেয়া: সবুর খানের বিরুদ্ধে আত্মসাত ও হুমকির অভিযোগ সিংড়ায় সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

লামায় ৩ দিনে পাহাড় কাটা বন্ধের আলটিমেটাম হাইকোর্টের, প্রয়োজনে নামবে সেনাবাহিনী

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এই আদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর করা একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  রাঙ্গুনিয়ায় তিন চালকলকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

আদালতের কঠোর নির্দেশনা ও রুল জারি:
লামার জন্য ৩ দিনের সময়সীমা: লামা উপজেলার (বিশেষ করে ফাইতং ইউনিয়ন) বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সমগ্র বান্দরবান জেলার জন্য রুল: ৩ দিনের জরুরি নিষেধাজ্ঞাটি নির্দিষ্ট করে লামা উপজেলার জন্য হলেও, হাইকোর্ট ৪ সপ্তাহের একটি রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে— সমগ্র বান্দরবান জেলা জুড়ে পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন স্থায়ী নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং ইতিমধ্যে কেটে ফেলা পাহাড়গুলো কেন পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ

আদালত আরেকটি আদেশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে এ সংক্রান্ত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদেশ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সহায়তা: রিটকারীর আইনজীবী জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় অনেক সময় সিভিল প্রশাসন সেখানে পূর্ণ শক্তি দেখাতে পারে না। তাই এবার আদেশে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে যে, স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধ সাপেক্ষে বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার এই আইনবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের যাত্রা শুরু

লামা এলাকায় ইটভাটা মালিকেরা আইন অমান্য করে দেদারসে পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছেন— গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩০ আগস্ট এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারৈ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে প্রধান শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ (সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও নাছরিন সুলতানা) এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ। মামলায় পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বান্দরবান জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক ইউপি সদস্য আটক

লামায় ৩ দিনে পাহাড় কাটা বন্ধের আলটিমেটাম হাইকোর্টের, প্রয়োজনে নামবে সেনাবাহিনী

আপডেটের সময়: ১১:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এই আদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর করা একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  বই হাতে স্কুলে যাওয়া হলো না সিয়ামের, সড়কেই থেমে গেল জীবন

আদালতের কঠোর নির্দেশনা ও রুল জারি:
লামার জন্য ৩ দিনের সময়সীমা: লামা উপজেলার (বিশেষ করে ফাইতং ইউনিয়ন) বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সমগ্র বান্দরবান জেলার জন্য রুল: ৩ দিনের জরুরি নিষেধাজ্ঞাটি নির্দিষ্ট করে লামা উপজেলার জন্য হলেও, হাইকোর্ট ৪ সপ্তাহের একটি রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে— সমগ্র বান্দরবান জেলা জুড়ে পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন স্থায়ী নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং ইতিমধ্যে কেটে ফেলা পাহাড়গুলো কেন পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  আত্মনির্ভরশীল মানব সম্পদ উন্নয়নে দীঘিনালা জোনের নতুন উদ্যোগ

আদালত আরেকটি আদেশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে এ সংক্রান্ত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদেশ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সহায়তা: রিটকারীর আইনজীবী জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় অনেক সময় সিভিল প্রশাসন সেখানে পূর্ণ শক্তি দেখাতে পারে না। তাই এবার আদেশে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে যে, স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধ সাপেক্ষে বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার এই আইনবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে এনে বিচার চায় জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

লামা এলাকায় ইটভাটা মালিকেরা আইন অমান্য করে দেদারসে পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছেন— গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩০ আগস্ট এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারৈ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে প্রধান শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ (সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও নাছরিন সুলতানা) এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ। মামলায় পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বান্দরবান জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।