Dhaka ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাজনৈতিক মামলায় শিবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মণ্ডল গ্রেপ্তার মাদক, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ রোধে নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩-এর সচেতনতামূলক সভা কাউনিয়ায় দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে ইউডিএমসি সভা নাগেশ্বরীতে ১ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার, জব্দ ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন হোসেনপুরে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান ছাত্রদল নেতা ছবুরের দেবিদ্বারে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৮ ব্যবসায়ীকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা মোংলায় বিশ্ব বাঘ দিবস উদযাপন পত্নীতলায় এমপি আন্না মিনজের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় খালে ছুড়ে ‘গায়েব’ করতে চেয়েছিলেন ইয়াবা, পুলিশের ঝাঁপে ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা

প্রবাসে থাকা ব্যক্তিকে সাক্ষী করে চার্জশিট, এসআই মোহাসিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সবুজপাড়া নদীর পাড় সংলগ্ন নামাটারী এলাকায় সংঘটিত একটি হামলার ঘটনায় তদন্তে অসঙ্গতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। ২৮-০৭-২৬ (মঙ্গলবার ) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী আনছারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করা এক ব্যক্তিকে সাক্ষী করে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে আনছারুল হক ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজতে মাজতে হাতে ব্রাশ নিয়ে বাড়ির পাশের সড়কে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জিয়াউর রহমান, শেফালী বেগম, জেমি আক্তার ও আসাদুল হকসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় আনছারুল হক শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্ত খরনে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে, আনছারুল হক ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাস্থলে আনছারুল হক একাই ছিলেন। পরে তার মা সেখানে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের দুই সদস্যকে নিজেরাই আঘাত করে আহত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে আনছারুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জিআর মামলা নং-৩২৮/২৫ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আনছারুল হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিআর মামলা নং-৩৩০/২৫ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে পেরে আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন।
ঘটনার পরদিন আনছারুল হক স্থানীয় পত্রিকা ও গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সঠিক তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। পরে আজকালের খবরসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে আনছারুল হকের অভিযোগ, পরবর্তীতে সেই আশ্বাস অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং তিনি প্রত্যাশিত বিচারিক সহায়তা পাননি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উভয় মামলার তদন্তভার পাওয়া তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাসিনুল হক নিরপেক্ষ তদন্ত না করে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করা এক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনছারুল হক আরও অভিযোগ করেন, তিনি দায়ের করা জিআর মামলা নং-৩৩০/২৫-এর আসামিরা প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও এখনো জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাসিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর ফল পাননি এবং তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় না
বলে দাবি করেন। একই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)-কেও অবহিত করেছেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের অবগত করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, “প্রবাসে থাকা ব্যক্তিকে সাক্ষী করার কোনো সুযোগ নেই।”

আরও পড়ুনঃ  আপা যেখানেই নামবে সেখানেই ফাঁসি বাস্তবায়ন করবে জনতা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাজনৈতিক মামলায় শিবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মণ্ডল গ্রেপ্তার

প্রবাসে থাকা ব্যক্তিকে সাক্ষী করে চার্জশিট, এসআই মোহাসিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেটের সময়: ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সবুজপাড়া নদীর পাড় সংলগ্ন নামাটারী এলাকায় সংঘটিত একটি হামলার ঘটনায় তদন্তে অসঙ্গতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। ২৮-০৭-২৬ (মঙ্গলবার ) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী আনছারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করা এক ব্যক্তিকে সাক্ষী করে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে আনছারুল হক ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজতে মাজতে হাতে ব্রাশ নিয়ে বাড়ির পাশের সড়কে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জিয়াউর রহমান, শেফালী বেগম, জেমি আক্তার ও আসাদুল হকসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় আনছারুল হক শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্ত খরনে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে, আনছারুল হক ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাস্থলে আনছারুল হক একাই ছিলেন। পরে তার মা সেখানে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের দুই সদস্যকে নিজেরাই আঘাত করে আহত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে আনছারুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জিআর মামলা নং-৩২৮/২৫ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আনছারুল হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিআর মামলা নং-৩৩০/২৫ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে পেরে আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন।
ঘটনার পরদিন আনছারুল হক স্থানীয় পত্রিকা ও গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সঠিক তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। পরে আজকালের খবরসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে আনছারুল হকের অভিযোগ, পরবর্তীতে সেই আশ্বাস অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং তিনি প্রত্যাশিত বিচারিক সহায়তা পাননি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উভয় মামলার তদন্তভার পাওয়া তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাসিনুল হক নিরপেক্ষ তদন্ত না করে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করা এক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনছারুল হক আরও অভিযোগ করেন, তিনি দায়ের করা জিআর মামলা নং-৩৩০/২৫-এর আসামিরা প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও এখনো জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাসিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর ফল পাননি এবং তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় না
বলে দাবি করেন। একই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)-কেও অবহিত করেছেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের অবগত করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, “প্রবাসে থাকা ব্যক্তিকে সাক্ষী করার কোনো সুযোগ নেই।”

আরও পড়ুনঃ  চক্রান্তের শিকার স্বপন ব্যাপ্যারীর মুক্তি ও মিথ্যা অস্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন