Dhaka ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফরিদপুর ফয়সাল ‌হত্যা ‌ মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাইযোদ্ধা সুজনের পরিবারের সাথে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ কাউনিয়া মীরবাগ ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ পদে দুই সরকারি দপ্তরের দুই আদেশ :শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সাঘাটায় প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে নিজের পাট নিজে কেটে অন্যের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ ধামরাইয়ে তীব্র গ্যাস সংকট: আবাসিক, পরিবহন ও কলকারখানায় নাভিশ্বাস, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ কর্ণফুলী টানেলে চার রাত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিকে সাক্ষী করে চার্জশিট, এসআই মোহাসিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজবাড়ীতে রামকান্তপুর এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাঁচ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার আপা যেখানেই নামবে সেখানেই ফাঁসি বাস্তবায়ন করবে জনতা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কাদার রাজত্বে দোপ্রু পাড়া স্কুল: বেহাল রাস্তায় স্কুলবিমুখ শিক্ষার্থীরা

মোঃরাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানো ‘দোপ্রু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ (স্থাপিত: ২০১০ খ্রি., জাতীয়করণ: ২০১৭ খ্রি.)-টি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এক প্রকার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টির চারপাশের মাটি ও সামনের একমাত্র খেলার মাঠটি তীব্র কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে প্রবেশ করতে পারছে না।আজ ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. তারিখে সরেজমিনে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা বা ভালো রাস্তা নেই। তার ওপর পুরো মাঠজুড়ে থিকথিকে কাদা জমে আছে। শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে হলে এই কাদা মাড়িয়েই যেতে হয়। ফলে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থীর জামাকাপড় ও বইখাতা কাদায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই নোংরা, কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক পরিবেশের কারণে শিশুরা এখন আর বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না। ঘরে ঘরে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এই অবর্ণনীয় পরিবেশে স্কুলে পাঠাতে অনিহা প্রকাশ করছেন।বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানো এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “স্কুলের মাঠ আর চারপাশের যে অবস্থা, তাতে বড় মানুষেরাই হাঁটতে পারে না। ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে এই কাদা ভেঙে ক্লাসে ঢুকবে? আসার কোনো ভালো রাস্তাও নাই। প্রতিদিন কাদা মাড়াতে গিয়ে বাচ্চাদের জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়। এই ভয়ে বাচ্চারা এখন আর স্কুলেই যেতে চায় না। কাদার মধ্যে পিছলে পড়ে হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ভয়ও থাকে। শিক্ষা অফিস কেন এই স্কুলটার দিকে নজর দিচ্ছে না?”এই চরম অব্যবস্থাপনা ও মাঠের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “মাঠ ও বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশ এখন এতটাই কর্দমাক্ত যে ছোট ছোট শিশুদের পক্ষে হেঁটে ক্লাসে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তাও নেই। কাদা মাড়িয়ে আসতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিশুরা পিছলে পড়ছে, তাদের পোশাক ও বইখাতা নষ্ট হচ্ছে। এই নোংরা পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা এখন বিদ্যালয়ে আসতে তীব্র অনিহা প্রকাশ করছে এবং দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। আমরা দ্রুত এই মাঠ ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাদার কারণে শিশুদের স্কুলবিমুখ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো সচল রাখতে এবং তাদের আনন্দময় শৈশব ও খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে তিন আসনের সংসদ চৌধুরী নায়াবা ইউসুফ উল্টো রথযাত্রা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উদ্বোধন করলেন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফরিদপুর ফয়সাল ‌হত্যা ‌ মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

কাদার রাজত্বে দোপ্রু পাড়া স্কুল: বেহাল রাস্তায় স্কুলবিমুখ শিক্ষার্থীরা

আপডেটের সময়: ১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মোঃরাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানো ‘দোপ্রু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ (স্থাপিত: ২০১০ খ্রি., জাতীয়করণ: ২০১৭ খ্রি.)-টি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এক প্রকার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টির চারপাশের মাটি ও সামনের একমাত্র খেলার মাঠটি তীব্র কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে প্রবেশ করতে পারছে না।আজ ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. তারিখে সরেজমিনে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা বা ভালো রাস্তা নেই। তার ওপর পুরো মাঠজুড়ে থিকথিকে কাদা জমে আছে। শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে হলে এই কাদা মাড়িয়েই যেতে হয়। ফলে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থীর জামাকাপড় ও বইখাতা কাদায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই নোংরা, কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক পরিবেশের কারণে শিশুরা এখন আর বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না। ঘরে ঘরে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এই অবর্ণনীয় পরিবেশে স্কুলে পাঠাতে অনিহা প্রকাশ করছেন।বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানো এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “স্কুলের মাঠ আর চারপাশের যে অবস্থা, তাতে বড় মানুষেরাই হাঁটতে পারে না। ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে এই কাদা ভেঙে ক্লাসে ঢুকবে? আসার কোনো ভালো রাস্তাও নাই। প্রতিদিন কাদা মাড়াতে গিয়ে বাচ্চাদের জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়। এই ভয়ে বাচ্চারা এখন আর স্কুলেই যেতে চায় না। কাদার মধ্যে পিছলে পড়ে হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ভয়ও থাকে। শিক্ষা অফিস কেন এই স্কুলটার দিকে নজর দিচ্ছে না?”এই চরম অব্যবস্থাপনা ও মাঠের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “মাঠ ও বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশ এখন এতটাই কর্দমাক্ত যে ছোট ছোট শিশুদের পক্ষে হেঁটে ক্লাসে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তাও নেই। কাদা মাড়িয়ে আসতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিশুরা পিছলে পড়ছে, তাদের পোশাক ও বইখাতা নষ্ট হচ্ছে। এই নোংরা পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা এখন বিদ্যালয়ে আসতে তীব্র অনিহা প্রকাশ করছে এবং দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। আমরা দ্রুত এই মাঠ ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাদার কারণে শিশুদের স্কুলবিমুখ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো সচল রাখতে এবং তাদের আনন্দময় শৈশব ও খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ  শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা উদযাপন ও প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট প্রদান