Dhaka ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত স্কয়ার মাস্টার বাড়ি বাজারে চীনা ফুশেং সিগারেটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার কাউনিয়ায় খেলনা গাড়ি তুলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু লালপুরে মাজার ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, নিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সিন্দুকও লালপুরে ৯০ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ১৮ মামলায় জর্জরিত এক পরিবার, হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৩ জন গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ঘাটাইলে ট্রাইকো ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সফলতা: মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্মের পরিবেশবান্ধব কৃষি বিপ্লব শালিখার সিমাখালী বাজার ব্রিজে ট্রাক দুর্ঘটনা, আহত চালক ও হেলপার মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ২, সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

১৮ মামলায় জর্জরিত এক পরিবার, হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

এন এস ফারুক স্টাফ রিপোর্টার রংপুর: আদালতের রায় পক্ষে, এমনকি প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে সরকারিভাবে জমিও বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছে না রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি অসহায় পরিবার। উল্টো প্রভাবশালী চক্রের রোষানলে পড়ে দেড় ডজন (১৮টি) মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পৈতৃক জমি দখল, গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রভাবশালী চক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন আক্তার। তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খোর্দ বেলাইচন্ডি ভীমপুর সরদারপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল জব্বারের মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওয়ারিশদের ১ একর ৬৮ শতক পৈতৃক জমি নিয়ে স্থানীয় একটি দখলবাজ ও মামলাবাজ চক্রের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিচার-শালিস হলেও আমরা কোনো সঠিক বিচার পাইনি। বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালে জমি উদ্ধারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (মামলা নং- ১০৫) দায়ের করি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২২ সালে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন।

আরও পড়ুনঃ  লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি ছাত্র-জনতা: ডা. শফিকুর রহমান

 

তিনি আরও জানান, আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিপক্ষরা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৩ সালে তিনি সরকারিভাবে জমি দখল বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য কমিশনে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে আইনানুগভাবে জমিটি তাদের বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সরকারিভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের জুলুম থামেনি। তারা আইন অমান্য করে পুনরায় জমিটি দখল করে নেয়। ভুক্তভোগী জেসমিনের অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে আইনি লড়াইয়ে হারতে দেখে প্রতিপক্ষ তাদের দমাতে একের পর এক গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিতে শুরু করে। বর্তমানে তাদের পরিবারের সদস্যের নামে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি (দেড় ডজন)। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মশিয়ার রহমান কালুয়ার নেতৃত্বে এই জুলুম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেসমিনের দাবি, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই নেতা তাদের নামের খারিজকৃত জমি নিজেদের লোকজনের নামে করিয়ে নিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ধামরাইয়ে ২৩৫ টি পূজা মন্ডপে ১৪৭৮ জন আনসার সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করছে

 

সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে জেসমিন আক্তার বলেন, “সরকারি একাধিক দপ্তরে সুবিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কর্মকর্তারা আমাদের কাগজপত্র সঠিক বললেও প্রতিপক্ষের অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারছেন না। মাসের অধিকাংশ দিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে আমাদের পরিবার আজ নিঃস্ব ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।” এ অবস্থায় মিথ্যা ও গায়েবি ১৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি, আদালতের রায় অনুযায়ী পৈতৃক জমির স্থায়ী দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইল জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ।
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

১৮ মামলায় জর্জরিত এক পরিবার, হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময়: ০৫:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

এন এস ফারুক স্টাফ রিপোর্টার রংপুর: আদালতের রায় পক্ষে, এমনকি প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে সরকারিভাবে জমিও বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছে না রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি অসহায় পরিবার। উল্টো প্রভাবশালী চক্রের রোষানলে পড়ে দেড় ডজন (১৮টি) মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পৈতৃক জমি দখল, গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রভাবশালী চক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন আক্তার। তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খোর্দ বেলাইচন্ডি ভীমপুর সরদারপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল জব্বারের মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওয়ারিশদের ১ একর ৬৮ শতক পৈতৃক জমি নিয়ে স্থানীয় একটি দখলবাজ ও মামলাবাজ চক্রের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিচার-শালিস হলেও আমরা কোনো সঠিক বিচার পাইনি। বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালে জমি উদ্ধারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (মামলা নং- ১০৫) দায়ের করি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২২ সালে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় কাটারুং ছড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে সেনা জোনের ডেউটিন প্রদান

 

তিনি আরও জানান, আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিপক্ষরা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৩ সালে তিনি সরকারিভাবে জমি দখল বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য কমিশনে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে আইনানুগভাবে জমিটি তাদের বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সরকারিভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের জুলুম থামেনি। তারা আইন অমান্য করে পুনরায় জমিটি দখল করে নেয়। ভুক্তভোগী জেসমিনের অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে আইনি লড়াইয়ে হারতে দেখে প্রতিপক্ষ তাদের দমাতে একের পর এক গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিতে শুরু করে। বর্তমানে তাদের পরিবারের সদস্যের নামে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি (দেড় ডজন)। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মশিয়ার রহমান কালুয়ার নেতৃত্বে এই জুলুম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেসমিনের দাবি, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই নেতা তাদের নামের খারিজকৃত জমি নিজেদের লোকজনের নামে করিয়ে নিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মেহেন্দিগঞ্জের ধুলিয়ার মধ্যচরে মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

 

সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে জেসমিন আক্তার বলেন, “সরকারি একাধিক দপ্তরে সুবিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কর্মকর্তারা আমাদের কাগজপত্র সঠিক বললেও প্রতিপক্ষের অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারছেন না। মাসের অধিকাংশ দিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে আমাদের পরিবার আজ নিঃস্ব ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।” এ অবস্থায় মিথ্যা ও গায়েবি ১৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি, আদালতের রায় অনুযায়ী পৈতৃক জমির স্থায়ী দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় এনজিও কর্মীকে রতনকে কুপিয়ে হত্যা,এক আসামি গ্রেফতার