Dhaka ০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইসমাইল কেন্দ্রের নির্দেশে বহিষ্কার ধামইরহাটে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা উচ্ছেদেও ফিরছে না সড়ক ফুটপাত চাপে বিপর্যস্ত ঢাকা নাটোরের লালপুরে ইমো হ্যাকারদের হাতে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রবাসীরা সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল কুলাউড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ বোতল কোডিন সিরাপ উদ্ধার, মামলা বাগেরহাটে নিজ ঘরে মিললো সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ শিমের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে কেরানীগঞ্জের মানুষের ভালোবাসায় চিরকাল বেঁচে থাকতে চাই: সাংবাদিক আব্দুর রহমান মোল্লা

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা: চার মামলায় আসামি এক হাজার, গ্রেপ্তার ২৬

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় পৃথক একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা রুজু করেছে। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এদিকে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

আরও পড়ুনঃ  ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ অভিযান চলবে, পক্ষে দাঁড়ালেই ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক

 

 

এর আগে, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  বদলে গেছে মিরপুরে ফুটপাতের চেহারা

 

 

পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরের সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। এরপর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এদিকে বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ ৩ গাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা: চার মামলায় আসামি এক হাজার, গ্রেপ্তার ২৬

আপডেটের সময়: ০৩:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় পৃথক একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা রুজু করেছে। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এদিকে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

আরও পড়ুনঃ  মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ ৩ গাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

 

 

এর আগে, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিমের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে

 

 

পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরের সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। এরপর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এদিকে বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ অভিযান চলবে, পক্ষে দাঁড়ালেই ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক