Dhaka ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ কেন্দুয়ায় ৫শ টাকা পাওনার বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা! মা-ছেলে আটক পবায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নিজ ঘরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে, ছোট্ট শিশুর মৃত্যু ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়লো ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের এক কোণে, মানুষের ভিড় আর যানজটের মাঝেই ফুটপাতে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসে আছেন কাপড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। কথা বলতে বলতে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তার মনটা ছিল ভীষণ ভারী। কিছুক্ষণ পর তার কথাতেই বোঝা গেলো সেই ভারের কারণ। সকাল থেকে মাত্র দুটি শার্ট বিক্রি হয়েছে। কিছুটা বিরক্ত স্বরে তিনি বললেন, এখন আর আগের মতো বেচাকেনা হয় না। গত দুই দিনের বৃষ্টির কারণে বিক্রি আরও কমে গেছে। কথায় কথায় তার বয়স জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানেন না। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ফুটপাতে ব্যবসা করেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন। ঢাকায় আসার সময় বয়স ছিল হয়তো ৮-১০ বছর; এভাবেই স্মৃতি হাতড়ে জানান তিনি। বাবা-মা ঢাকায় আসার আগেই মারা গেছেন। ঢাকায় এসে শুরুতে টোকাইয়ের কাজ করতেন রফিকুল। পরে কিছু পুঁজি জোগাড় করে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। সেই থেকেই রাস্তার ধুলো, রোদ আর বৃষ্টিই তার নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো

 

বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ এলাকায় থাকেন। এক রুমের একটি বাসা, মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা। সেই এক ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় সংসারে টান পড়েছে। ব্যবসা বড় করার জন্য কিছু টাকা ঋণও করেছিলেন রফিকুল। সেই ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে কোনোরকম দিন। তিনি বলেন, ধার করি, পরে কষ্ট করে শোধও দিই। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারি না। এখন তো মনে হয়, কোনোভাবে দিন পার করাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই তার বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মেয়েটার জন্য এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময় নতুন কিছু কিনে দিতে পারিনি। ওর দিকে তাকাতেও কষ্ট হয়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান

 

রফিকুল জানান, প্রতি মাসের ২০ তারিখে ঘরভাড়া দেওয়ার কথা। পাঁচ দিন সময় নিয়েছিলেন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও এপ্রিল মাসের ভাড়া এখনো বাকি। বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি নিরুপায়। বলেন, যাওয়ার আর জায়গা নেই। তাই যত কষ্টই হোক, এখানেই থাকতে হবে। পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, কী আর বলবো, গত পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না। কোনোরকমে জীবন চালানোর জন্য বাজার করি। মেয়েটার পরীক্ষা চলছে, তাকে একটু ভালো খাবারও দিতে পারি না। মেয়েটা একটা নতুন জামা চেয়েছিল পরীক্ষার জন্য, সেটাও দিতে পারলাম না। এই আক্ষেপের মাঝেই হঠাৎ একজন ক্রেতা আসেন। মুহূর্তেই নিজের কষ্ট সরিয়ে রেখে বেচাকেনায় মন দেন রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ উদযাপন শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম

পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না

আপডেটের সময়: ০৫:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের এক কোণে, মানুষের ভিড় আর যানজটের মাঝেই ফুটপাতে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসে আছেন কাপড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। কথা বলতে বলতে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তার মনটা ছিল ভীষণ ভারী। কিছুক্ষণ পর তার কথাতেই বোঝা গেলো সেই ভারের কারণ। সকাল থেকে মাত্র দুটি শার্ট বিক্রি হয়েছে। কিছুটা বিরক্ত স্বরে তিনি বললেন, এখন আর আগের মতো বেচাকেনা হয় না। গত দুই দিনের বৃষ্টির কারণে বিক্রি আরও কমে গেছে। কথায় কথায় তার বয়স জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানেন না। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ফুটপাতে ব্যবসা করেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন। ঢাকায় আসার সময় বয়স ছিল হয়তো ৮-১০ বছর; এভাবেই স্মৃতি হাতড়ে জানান তিনি। বাবা-মা ঢাকায় আসার আগেই মারা গেছেন। ঢাকায় এসে শুরুতে টোকাইয়ের কাজ করতেন রফিকুল। পরে কিছু পুঁজি জোগাড় করে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। সেই থেকেই রাস্তার ধুলো, রোদ আর বৃষ্টিই তার নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান

 

বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ এলাকায় থাকেন। এক রুমের একটি বাসা, মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা। সেই এক ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় সংসারে টান পড়েছে। ব্যবসা বড় করার জন্য কিছু টাকা ঋণও করেছিলেন রফিকুল। সেই ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে কোনোরকম দিন। তিনি বলেন, ধার করি, পরে কষ্ট করে শোধও দিই। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারি না। এখন তো মনে হয়, কোনোভাবে দিন পার করাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই তার বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মেয়েটার জন্য এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময় নতুন কিছু কিনে দিতে পারিনি। ওর দিকে তাকাতেও কষ্ট হয়।

আরও পড়ুনঃ  ​নয়া পল্টনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

 

রফিকুল জানান, প্রতি মাসের ২০ তারিখে ঘরভাড়া দেওয়ার কথা। পাঁচ দিন সময় নিয়েছিলেন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও এপ্রিল মাসের ভাড়া এখনো বাকি। বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি নিরুপায়। বলেন, যাওয়ার আর জায়গা নেই। তাই যত কষ্টই হোক, এখানেই থাকতে হবে। পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, কী আর বলবো, গত পনেরো দিন ধরে মাছ-মাংস কিনি না। কোনোরকমে জীবন চালানোর জন্য বাজার করি। মেয়েটার পরীক্ষা চলছে, তাকে একটু ভালো খাবারও দিতে পারি না। মেয়েটা একটা নতুন জামা চেয়েছিল পরীক্ষার জন্য, সেটাও দিতে পারলাম না। এই আক্ষেপের মাঝেই হঠাৎ একজন ক্রেতা আসেন। মুহূর্তেই নিজের কষ্ট সরিয়ে রেখে বেচাকেনায় মন দেন রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো