Dhaka ০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেদে পল্লীর উন্নয়নে খাসজমি, সেলাই মেশিন ও ৫ লাখ টাকা বিতরণ ফরিদপুর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন: শতভাগ সাক্ষর উপজেলা গড়ার প্রত্যয়। বদলগাছীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত লন্ডন ইংলিশ স্কুলের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: সন্ত্রাসী হামলা, আতঙ্কিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আটোয়ারী ছেড়ে যাচ্ছেন ইউএনও রিপামনি দেবী, ভালোবাসায় সিক্ত বিদায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল- জালিয়াতি করে বিপদে ফেলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মা-বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম কেন্দুয়ার মারুফ মিয়ার মরদেহ বনগাঁও থেকে উদ্ধার মান্দায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস২০২৬ পালিত

থানারহাট–বাংলাবাজার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১১২ সময় দেখুন

আবদুল আজিজ সায়েম, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী):নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অসংখ্য বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা কার্পেটিং ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন এক “মৃত্যুফাঁদ”। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে হয়নি কোনো দৃশ্যমান সংস্কার কাজ। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারীও পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  দোয়ার মাহফিলের নামে ডেকে নিয়ে ভিডিও ধারণ, মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইলিং

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুফফা গার্লস মাদরাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ভয় আর শঙ্কা নিয়ে তাদের এই সড়ক পার হতে হয়। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনকেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এম. শরীফ ভূঞা বলেন,এটি শুধু একটি ভাঙা রাস্তার গল্প নয়, এটি হাজারো মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগের গল্প। সংবাদ প্রকাশ ও একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনগণের কষ্ট লাঘবে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি।রেমিট্যান্সযোদ্ধা পারভেজ হোসাইন বলেন,বিদেশে থেকে দেশের উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু নিজের এলাকার এই সড়ক দেখে খুব কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। উন্নয়নের সুফল তখনই মিলবে, যখন মানুষের মৌলিক চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  মেধা মূল্যায়নে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বদলগাছী উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন

 

থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নয়ন বলেন,কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আগে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।সুফফা গার্লস মাদরাসার শিক্ষার্থী সাদিকা ভূঞা সুবহা বলেন,বৃষ্টি হলে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই ভয় লাগে। অনেক সময় জুতা কাদায় আটকে যায়, আবার গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আমরা নিরাপদ একটি রাস্তা চাই।

আরও পড়ুনঃ  রাঙ্গুনিয়ায় তিন চালকলকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

 

এক রিকশাচালক বলেন,এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা মানেই লোকসান। প্রতিনিয়ত রিকশা নষ্ট হচ্ছে, যাত্রীরাও ভয়ে উঠতে চান না। তারপরও জীবিকার জন্য বাধ্য হয়ে এই রাস্তা ব্যবহার করছি।হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক রোগী বলেন,অসুস্থ অবস্থায় এই রাস্তার ঝাঁকুনি সহ্য করা খুব কষ্টের। মনে হচ্ছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শরীর আরও খারাপ হয়ে যাবে। এমন রাস্তা মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়—অবিলম্বে থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বেদে পল্লীর উন্নয়নে খাসজমি, সেলাই মেশিন ও ৫ লাখ টাকা বিতরণ

থানারহাট–বাংলাবাজার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

আপডেটের সময়: ০৩:০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আবদুল আজিজ সায়েম, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী):নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অসংখ্য বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা কার্পেটিং ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন এক “মৃত্যুফাঁদ”। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে হয়নি কোনো দৃশ্যমান সংস্কার কাজ। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারীও পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলে পান চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে স্থানীয় কৃষক রবিউল

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুফফা গার্লস মাদরাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ভয় আর শঙ্কা নিয়ে তাদের এই সড়ক পার হতে হয়। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনকেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এম. শরীফ ভূঞা বলেন,এটি শুধু একটি ভাঙা রাস্তার গল্প নয়, এটি হাজারো মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগের গল্প। সংবাদ প্রকাশ ও একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনগণের কষ্ট লাঘবে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি।রেমিট্যান্সযোদ্ধা পারভেজ হোসাইন বলেন,বিদেশে থেকে দেশের উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু নিজের এলাকার এই সড়ক দেখে খুব কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। উন্নয়নের সুফল তখনই মিলবে, যখন মানুষের মৌলিক চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় আবুল হোসেন ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেটের রমরমা ব্যবসা

 

থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নয়ন বলেন,কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আগে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।সুফফা গার্লস মাদরাসার শিক্ষার্থী সাদিকা ভূঞা সুবহা বলেন,বৃষ্টি হলে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই ভয় লাগে। অনেক সময় জুতা কাদায় আটকে যায়, আবার গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আমরা নিরাপদ একটি রাস্তা চাই।

আরও পড়ুনঃ  মেধা মূল্যায়নে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বদলগাছী উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন

 

এক রিকশাচালক বলেন,এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা মানেই লোকসান। প্রতিনিয়ত রিকশা নষ্ট হচ্ছে, যাত্রীরাও ভয়ে উঠতে চান না। তারপরও জীবিকার জন্য বাধ্য হয়ে এই রাস্তা ব্যবহার করছি।হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক রোগী বলেন,অসুস্থ অবস্থায় এই রাস্তার ঝাঁকুনি সহ্য করা খুব কষ্টের। মনে হচ্ছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শরীর আরও খারাপ হয়ে যাবে। এমন রাস্তা মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়—অবিলম্বে থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।