Dhaka ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কুলিয়ারচরে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নাটোরের লালপুরে প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল তথ্য নিতে এসে ওসির ধমক খেলেন সাংবাদিক, মধ্যস্থতাকারীদের দিয়ে ঘটনা ‘দফারফা’র অভিযোগ! নজিপুর পৌরসভা রুকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন স্বর্ণগ্রাম-দাড়িদহে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন সুবিধাবঞ্চিতরা ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে এনে বিচার চায় জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময় মিরপুরে ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, বড় ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠিতে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকাল ৯:৩০ মিনিটে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন, ঝালকাঠি সদরের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন, ঝালকাঠির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ মমিন উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
জনাব মোঃ কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজ শাকিলা রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সেগুফতা মেহনাজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), ঝালকাঠি সদর
জনাব আল আমীন, উপব্যবস্থাপক, বিসিক জেলা কার্যালয়, ঝালকাঠি, ডা. নীরোদ বরণ জয়ধর, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার উক্ত অনুষ্ঠানে ঝালকাঠির সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দসহ কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশিক্ষণার্থীবrow অংশ নেন।
অর্থনীতি ও চামড়া শিল্পের গুরুত্ব অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় এবং ব্যক্তি, সমাজ ও অর্থনীতিতে দায়িত্ববোধ জাগায়। এই ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দেশের পশু পালন ও চামড়া শিল্পসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এই খাতের টেকসই বিকাশের জন্য কোরবানির সময়ে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে চামড়া ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত অপরিহার্য।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জরুরি নির্দেশনা:
জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা ও চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে:
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা: পশুর হাটে প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য আলাদা পথের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাটে না আনাই উত্তম।
বর্জ্য অপসারণ: কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নির্ধারিত গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিতে হবে এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দ্রুত স্থানটি পরিষ্কার করতে হবে।
চামড়া ছাড়ানোর সতর্কতা: চামড়া ছাড়ানোর সময় অবশ্যই মাথায় বাঁকানো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই রক্তমাখা ছুরি চামড়ায় মোছা যাবে না। চামড়ায় যাতে কোনো ‘লেসকাট’ বা কাটা দাগ না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
লবণ প্রয়োগের নিয়ম: চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর গরুর চামড়ার জন্য ৭-৮ কেজি এবং ছাগলের চামড়ার জন্য ৩-৪ কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হবে। চামড়া ছাড়ানোর ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
সংরক্ষণ: লবণযুক্ত চামড়া অবশ্যই ঢালু, শুকনো এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। পশুর হাটেই যাতে লবণ সংগ্রহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আহ্বান
কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বলা হয়, চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। সঠিক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভাটারা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাহিন গ্রেপ্তার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ঝালকাঠিতে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আপডেটের সময়: ০৩:১৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকাল ৯:৩০ মিনিটে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন, ঝালকাঠি সদরের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন, ঝালকাঠির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ মমিন উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
জনাব মোঃ কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজ শাকিলা রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সেগুফতা মেহনাজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), ঝালকাঠি সদর
জনাব আল আমীন, উপব্যবস্থাপক, বিসিক জেলা কার্যালয়, ঝালকাঠি, ডা. নীরোদ বরণ জয়ধর, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার উক্ত অনুষ্ঠানে ঝালকাঠির সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দসহ কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশিক্ষণার্থীবrow অংশ নেন।
অর্থনীতি ও চামড়া শিল্পের গুরুত্ব অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় এবং ব্যক্তি, সমাজ ও অর্থনীতিতে দায়িত্ববোধ জাগায়। এই ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দেশের পশু পালন ও চামড়া শিল্পসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এই খাতের টেকসই বিকাশের জন্য কোরবানির সময়ে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে চামড়া ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত অপরিহার্য।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জরুরি নির্দেশনা:
জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা ও চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে:
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা: পশুর হাটে প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য আলাদা পথের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাটে না আনাই উত্তম।
বর্জ্য অপসারণ: কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নির্ধারিত গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিতে হবে এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দ্রুত স্থানটি পরিষ্কার করতে হবে।
চামড়া ছাড়ানোর সতর্কতা: চামড়া ছাড়ানোর সময় অবশ্যই মাথায় বাঁকানো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই রক্তমাখা ছুরি চামড়ায় মোছা যাবে না। চামড়ায় যাতে কোনো ‘লেসকাট’ বা কাটা দাগ না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
লবণ প্রয়োগের নিয়ম: চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর গরুর চামড়ার জন্য ৭-৮ কেজি এবং ছাগলের চামড়ার জন্য ৩-৪ কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হবে। চামড়া ছাড়ানোর ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
সংরক্ষণ: লবণযুক্ত চামড়া অবশ্যই ঢালু, শুকনো এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। পশুর হাটেই যাতে লবণ সংগ্রহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আহ্বান
কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বলা হয়, চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। সঠিক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  দেশ কিছুটা স্থিতিশীল তবে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম