Dhaka ০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আধুনিকতার গ্রাসে হারাচ্ছে ঐতিহ্য: ঠাকুরগাঁওয়ে বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম খাগড়াছড়িতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁও নদীতে ভাসমান কিশোরের মরদেহ উদ্ধার পীরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৭৩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থী পেল শিক্ষাবৃত্তি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে গাইবান্ধায় মহিলা পরিষদের স্মারকলিপি প্রদান মাদারগঞ্জে গতকালের পর, আবারও আজ হিটস্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু….. নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে সভাপতি হলেন আব্দুল মান্নান রানা অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির বিভিন্ন নগরে। ক্রমেই বাড়ছে সেই বিক্ষোভ। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়, প্রশাসনিক দফতরসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলাও হচ্ছে। এতে করে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বিক্ষোভকারীকে। রবিবার (২৯ মার্চ) মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং হাজারো বিক্ষোভকারী ঘিরে ফেলেছে। তারা ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা করেছে। এ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই ব্যক্তিকে। সংস্থাটি জানায়, ভবনটি ঘিরে ফেলে প্রায় ১ হাজার বিক্ষোভকারী। বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হামলায় দুই কর্মকর্তা সিমেন্টের ব্লকের আঘাতে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন তারা।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

 

আয়োজকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটনে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও ‘নো কিংস’ এর দুই-তৃতীয়াংশ কর্মসূচিই প্রধান শহরগুলোর বাইরে আয়োজন করা হয়। যা গত জুনে আন্দোলনটির প্রথম সমাবেশের তুলনায় ছোট সম্প্রদায়গুলোতে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলকারীরা জানান, ইরান যুদ্ধ, ফেডারেল অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প আমাদের ওপর স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। কিন্তু এটি আমেরিকা এখানে ক্ষমতা জনগণের, কোনো ‘রাজা’ বা তার ধনী সহযোগীদের নয়। তারা আরও জানান, ‘নো কিংস’ কর্মসূচির কোনো একক, নির্দিষ্ট দাবি ইচ্ছাকৃতভাবেই নেই। এটি ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের বিচিত্র ও বিস্তৃত চরিত্রকে তুলে ধরেছে। প্রচারপত্র ও ইমেইলে নানা ইস্যুর কথা বলা হয়েছে—অভিবাসন টহল, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, হোয়াইট হাউসের বলরুম, ইউক্রেন এবং সাশ্রয়ী আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো

 

জানুয়ারিতে মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত বড় একটি সমাবেশে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেন্ট পল শহরের স্টেট ক্যাপিটলের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। সেখানে সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ শিরোনামের একটি গান পরিবেশন করেন। গত বছর পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন শহরে রাজ্য গভর্নরদের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাকে ‘রাজা’ বলা হচ্ছে, কিন্তু আমি রাজা নই। তবে হোয়াইট হাউস দেশব্যাপী এই বিক্ষোভকে ‘বামপন্থি অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের’ ফসল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর পেছনে জনগণের প্রকৃত সমর্থন নেই বলে উল্লেখ করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, বিবিসি, সিবিএস নিউজ

আরও পড়ুনঃ  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আধুনিকতার গ্রাসে হারাচ্ছে ঐতিহ্য: ঠাকুরগাঁওয়ে বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ

আপডেটের সময়: ০৫:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির বিভিন্ন নগরে। ক্রমেই বাড়ছে সেই বিক্ষোভ। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়, প্রশাসনিক দফতরসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলাও হচ্ছে। এতে করে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বিক্ষোভকারীকে। রবিবার (২৯ মার্চ) মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং হাজারো বিক্ষোভকারী ঘিরে ফেলেছে। তারা ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা করেছে। এ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই ব্যক্তিকে। সংস্থাটি জানায়, ভবনটি ঘিরে ফেলে প্রায় ১ হাজার বিক্ষোভকারী। বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হামলায় দুই কর্মকর্তা সিমেন্টের ব্লকের আঘাতে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন তারা।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

 

আয়োজকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটনে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও ‘নো কিংস’ এর দুই-তৃতীয়াংশ কর্মসূচিই প্রধান শহরগুলোর বাইরে আয়োজন করা হয়। যা গত জুনে আন্দোলনটির প্রথম সমাবেশের তুলনায় ছোট সম্প্রদায়গুলোতে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলকারীরা জানান, ইরান যুদ্ধ, ফেডারেল অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প আমাদের ওপর স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। কিন্তু এটি আমেরিকা এখানে ক্ষমতা জনগণের, কোনো ‘রাজা’ বা তার ধনী সহযোগীদের নয়। তারা আরও জানান, ‘নো কিংস’ কর্মসূচির কোনো একক, নির্দিষ্ট দাবি ইচ্ছাকৃতভাবেই নেই। এটি ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের বিচিত্র ও বিস্তৃত চরিত্রকে তুলে ধরেছে। প্রচারপত্র ও ইমেইলে নানা ইস্যুর কথা বলা হয়েছে—অভিবাসন টহল, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, হোয়াইট হাউসের বলরুম, ইউক্রেন এবং সাশ্রয়ী আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

 

জানুয়ারিতে মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত বড় একটি সমাবেশে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেন্ট পল শহরের স্টেট ক্যাপিটলের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। সেখানে সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ শিরোনামের একটি গান পরিবেশন করেন। গত বছর পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন শহরে রাজ্য গভর্নরদের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাকে ‘রাজা’ বলা হচ্ছে, কিন্তু আমি রাজা নই। তবে হোয়াইট হাউস দেশব্যাপী এই বিক্ষোভকে ‘বামপন্থি অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের’ ফসল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর পেছনে জনগণের প্রকৃত সমর্থন নেই বলে উল্লেখ করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, বিবিসি, সিবিএস নিউজ

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান