Dhaka ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধুনটে যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযান মাদকসহ গ্রেফতার ও নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস নাটোর লালপুরে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত একাধিক শরণখোলায় স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সরগরম মাঠ, বদলাচ্ছে প্রার্থী সমীকরণ নাটোর বরাইগ্রামে বশিক্ষার্থীদের পরিশ্রমী, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে: নাটোরের জেলা প্রশাসক সাঘাটা কচুয়া হিন্দুপাড়ার শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণে ৫৭ বিজিবি চট্টগ্রামে ট্যাঙ্ক মহড়ায় বিস্ফোরণ: সামরিক মর্যাদায় রাজশাহীতে মা-র পাশে শায়িত সেনাসদস্য রিফাত শতবর্ষী বানেছার সঙ্গী এখন ক্ষুধা আর একাকীত্ব করবো কাজ গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ দুই বিদ্যালয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠান বগুড়ায় ৬০ হাজারের বেশি অটোরিকশা, প্রতিদিন ভাড়া বাবদ লেনদেন সাড়ে ৫ কোটি টাকা

শরণখোলায় স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সরগরম মাঠ, বদলাচ্ছে প্রার্থী সমীকরণ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০ সময় দেখুন

মো. আব্দুল করিম গাজী, শরণখোলা,(বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও চার ইউনিয়নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন ঘোষিত প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হলেও প্রায় সব ইউনিয়নেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে দুই দলের মধ্যেই চলছে হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে জামায়াতের ঘোষিত কয়েকজন প্রার্থী এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁদের বিকল্প হিসেবে নতুন মুখের নাম আলোচনায় এসেছে।

 

ধানসাগরে জামায়াতের প্রার্থী আলী আহমদ আকন উপজেলার ১ নং ধানসাগর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার আলী আহমদ আকন। দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁর প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো নির্বাচনী বিধিগত জটিলতা নেই। ফলে ধানসাগরে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই ধরে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মহিউদ্দিন বাদল, লিটন হাওলাদার ও বাবুল আকন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরণখোলা উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুসা সাইফিও এলাকায় গণসংযোগ করছেন। ২ নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির। তবে তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বিধিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ১২, ইয়াবা উদ্ধার

 

তাঁর বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন- উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা ছরোয়ার হোসাইন বাদল,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম মোতাহার হোসেন হাওলাদারের ছেলে মাওলানা মুফতি মাসুদুর রহমান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল; এবং জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রেজাউল করিম পান্না। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ মামুন শরীফ, মোঃ মাসুক হাওলাদার ও ডাঃ হুমায়ুন কবির গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খান মতিউর রহমানের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই নির্বাচনে দলের প্রার্থী হবেন।

 

রায়েন্দায়ও বদলাতে পারে জামায়াতের প্রার্থী-
৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তফা আমিন। কিন্তু নির্বাচনী বিধিগত জটিলতার কারণে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে উপজেলা জামায়াতের সাবেক দায়িত্বশীল গোলাম রসূলের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। রায়েন্দায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি বেল্লাল হোসেন মিলন, যুবদলের আহ্বায়ক আল আমিন খান, ফরিদ উদ্দিন মানিক ও ইসহাক আলী মোল্লা। এ ছাড়া জামাল নূর হাওলাদারের নামও আলোচনায় রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান ক্বারী আব্দুর রশিদ খানের নাতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ।

আরও পড়ুনঃ  জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ

 

সাউথখালীতে জামায়াতের বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে- ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা সরোয়ার হোসাইন। তিনিও নির্বাচনী বিধিগত জটিলতার কারণে প্রার্থী হতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিকল্প হিসেবে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম সাগরের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আইনি জটিলতা না থাকলে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাঃ ফজলুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েতের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কচুয়া-বেতাগী সেতু হলে দুই বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে: এমপি জামাল

শরণখোলা’র ৩৬ ওয়ার্ডেও বাড়ছে তৎপরতা- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি উপজেলার ৩৬টি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না-এমন বিধান কার্যকর হলে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। অন্যদিকে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্য-দুই পর্যায়ের নির্বাচন ঘিরেই স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জামায়াত ও বিএনপি নিজ নিজ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর শরণখোলার চার ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ড, গণসংযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ফলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও শরণখোলার গ্রামগঞ্জে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রার্থী সমীকরণের হিসাব-নিকাশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধুনটে যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযান মাদকসহ গ্রেফতার ও নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

শরণখোলায় স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সরগরম মাঠ, বদলাচ্ছে প্রার্থী সমীকরণ

আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো. আব্দুল করিম গাজী, শরণখোলা,(বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও চার ইউনিয়নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন ঘোষিত প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হলেও প্রায় সব ইউনিয়নেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে দুই দলের মধ্যেই চলছে হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে জামায়াতের ঘোষিত কয়েকজন প্রার্থী এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁদের বিকল্প হিসেবে নতুন মুখের নাম আলোচনায় এসেছে।

 

ধানসাগরে জামায়াতের প্রার্থী আলী আহমদ আকন উপজেলার ১ নং ধানসাগর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার আলী আহমদ আকন। দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁর প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো নির্বাচনী বিধিগত জটিলতা নেই। ফলে ধানসাগরে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই ধরে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মহিউদ্দিন বাদল, লিটন হাওলাদার ও বাবুল আকন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরণখোলা উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুসা সাইফিও এলাকায় গণসংযোগ করছেন। ২ নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির। তবে তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বিধিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুনঃ  কচুয়া-বেতাগী সেতু হলে দুই বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে: এমপি জামাল

 

তাঁর বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন- উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা ছরোয়ার হোসাইন বাদল,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম মোতাহার হোসেন হাওলাদারের ছেলে মাওলানা মুফতি মাসুদুর রহমান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল; এবং জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রেজাউল করিম পান্না। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ মামুন শরীফ, মোঃ মাসুক হাওলাদার ও ডাঃ হুমায়ুন কবির গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খান মতিউর রহমানের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই নির্বাচনে দলের প্রার্থী হবেন।

 

রায়েন্দায়ও বদলাতে পারে জামায়াতের প্রার্থী-
৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তফা আমিন। কিন্তু নির্বাচনী বিধিগত জটিলতার কারণে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে উপজেলা জামায়াতের সাবেক দায়িত্বশীল গোলাম রসূলের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। রায়েন্দায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি বেল্লাল হোসেন মিলন, যুবদলের আহ্বায়ক আল আমিন খান, ফরিদ উদ্দিন মানিক ও ইসহাক আলী মোল্লা। এ ছাড়া জামাল নূর হাওলাদারের নামও আলোচনায় রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান ক্বারী আব্দুর রশিদ খানের নাতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিতে শতাধিক শ্রমিকের কোটি টাকা বকেয়া: সবুর খানের বিরুদ্ধে আত্মসাত ও হুমকির অভিযোগ

 

সাউথখালীতে জামায়াতের বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে- ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা সরোয়ার হোসাইন। তিনিও নির্বাচনী বিধিগত জটিলতার কারণে প্রার্থী হতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিকল্প হিসেবে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম সাগরের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আইনি জটিলতা না থাকলে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাঃ ফজলুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েতের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে পিএফজি কমিটির সভা

শরণখোলা’র ৩৬ ওয়ার্ডেও বাড়ছে তৎপরতা- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি উপজেলার ৩৬টি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না-এমন বিধান কার্যকর হলে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। অন্যদিকে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্য-দুই পর্যায়ের নির্বাচন ঘিরেই স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জামায়াত ও বিএনপি নিজ নিজ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর শরণখোলার চার ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ড, গণসংযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ফলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও শরণখোলার গ্রামগঞ্জে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রার্থী সমীকরণের হিসাব-নিকাশ।