
মোঃ আল আমিন, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় দিগন্তজোড়া মাঠে সোনালি রোদে সবুজ-হলুদ আখের খেত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীন এই ফসলটি হারাতে বসেছে তার চিরচেনা রূপ। তবে গ্রামীণ অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের মাধ্যমে নতুন রঙিন স্বপ্ন দেখছে কৃষি বিভাগ। সরেজমিনে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দেখা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় একসময় কমবেশি আখের আবাদ হলেও তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। খেত থেকেই ছোট-বড় পাইকাররা বিভিন্ন আকারের কাঙ্ক্ষিত আখ সংগ্রহ করে স্থানীয় হাটবাজারের অলিগলিতে বিক্রি করছেন। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই। দীর্ঘ সময় ধরে চলা শ্রমিক সংকট ও ন্যায্য মূল্যের অভাবে চাষিরা দিন দিন এই ফসল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। প্রাচীন এই সোনালি ফসলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিষাক্ত তামাক চাষের পরিবর্তে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক জাতের আখ এবং বিজ্ঞানসম্মত চাষ পদ্ধতি। কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সদর উপজেলার রঙ্গনপুর এলাকার চাষি আব্দুর রহমান বলেন, জমি বর্গা ও চাষাবাদ মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো দাম পেলে প্রায় এক লাখ টাকায় আখ বিক্রি করা সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। একই এলাকার আরেক চাষি শাহিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চাষাবাদ করতে হয় বলে আখ চাষে নানা সমস্যা পোহাতে হয়। সময়মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক এবং উৎপাদিত আখের সঠিক বাজারমূল্য না পাওয়া অন্যতম প্রধান সমস্যা। এর কারণে দিন দিন আমাদের এই অঞ্চলে আখের আবাদ কমে যাচ্ছে। আতাউর রহমান নামের এক পাইকার বলেন, একশ পিস আখ কিনছি দুই হাজার দুইশ টাকায়। বিক্রি করতে হবে প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আগে আবাদ বেশি হতো, এখন সার, বীজ ও শ্রমিক সংকটের কারণে আখের আবাদ কমে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়লে পাইকাররাও সহজে মাঠে এসে আখ কিনতে পারবে এবং এতে কৃষকরাও লাভবান হবেন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাসুম ভূঁইয়া বলেন, সদরে এ পর্যন্ত ১৫৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। তামাক চাষের পরিবর্তে আখ ও এর সঙ্গে সাথী ফসল চাষের পরিকল্পনার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের জন্য সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।
প্রতিবেদকের নাম 



















