
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো
রাঙামাটির রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে যে জনমানুষের ভালোবাসার গুরুত্ব অনেক বেশি, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ দীপেন দেওয়ানের প্রতি প্রকাশ পাওয়া এই ভালোবাসা এখন জেলা ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গতকাল ও আজ রাঙামাটিতে তাঁর বিভিন্ন গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সাথে আকস্মিক সাক্ষাতের সময় দেখা গেছে এক আবেগঘন পরিবেশ। কোনো প্রটোকল বা ক্ষমতার দাপট ছাড়াই প্রবীণ এই নেতাকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রীতিমতো নজর কেড়েছে সবার।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ এবং স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে দীপেন দেওয়ানের গণসংযোগের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্গম এলাকার মানুষও তাদের প্রিয় নেতাকে দেখতে ছুটে আসছেন। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করছেন, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর সাধারণত রাজনীতিবিদদের চারপাশে চাটুকার বা অনুসারীদের ভিড় কমে যায়। কিন্তু দীপেন দেওয়ানের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে এক অনেকে লিখেছেন: ”ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের জন্য করা কাজ আর সততা যে মানুষকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যায়, তার প্রমাণ রাঙামাটিবাসী দীপেন দেওয়ানের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে দিল।” এছাড়া অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপেন দেওয়ানের প্রতি সাধারণ মানুষের এই অকপট ভালোবাসা পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। মন্ত্রী থাকাকালীন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার যে সুনাম তিনি অর্জন করেছিলেন, আজ ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও তারই প্রতিদান পাচ্ছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই যেখানেই তিনি যাচ্ছেন, সেখানেই তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এ বিষয়ে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “মন্ত্রীত্ব বা বড় পদ না থাকলেও দীপেন দেওয়ান আমাদের মনের মন্ত্রী হয়েই আছেন। তিনি সবসময় আমাদের কথা শুনেছেন, তাই আজ আমরাও তাঁর পাশে আছি।”রাঙামাটির এই চিত্র প্রমাণ করে, সত্যিকারের জননেতা হতে গেলে ক্ষমতার চেয়ারের চেয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি। সাবেক এই মন্ত্রীর প্রতি রাঙামাটিবাসীর এই অকৃত্রিম ভালোবাসা পার্বত্য জনপদের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক ও অনুকরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রতিবেদকের নাম 






















