
মোঃ শরিফ হোসেন,ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: আসুন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি”—এই দৃপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে ভোলার চরসামাইয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় জনতা। ভোলা সদর উপজেলার ৯ নম্বর চরসামাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আজ এক বিশাল মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে চরসামাইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি ও সর্বস্তরের জনতা একতাবদ্ধ হয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। জুমার নামাজ পরপরই মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। পরে একটি বিশাল মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন: মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে আজ আমাদের তরুণ সমাজ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এই সামাজিক ব্যাধি রুখতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
বক্তারা মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান। একই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। কেবল আইনি পদক্ষেপই নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান বক্তারা। সফল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ২ নম্বর ওয়ার্ড মাদক নির্মূল কমিটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। মাদকবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ হলেন: সভাপতি রেদোয়ান সবুজ, সহ-সভাপতি বশার মাস্টার, আলম লিটন, আবদুল মান্নান, হাওলাদার ও সুমন তহশিলদার, সাধারণ, সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম নবাব, সাংগঠনিক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন, উক্ত অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূল কমিটির, নবনির্বাচিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মসজিদের, ইমাম ও মুসল্লি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এলাকায় মাদকের চিরতরে অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।
প্রতিবেদকের নাম 

















