Dhaka ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের মিলনমেলায় মুখরিত ধুনট মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের শেষ দিনে হিজলায় সংঘর্ষ, গুলিতে জেলে নিহত, আহত ৫ মানবপাচার ইয়াবা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা মানিকগঞ্জে দিশারী’র আয়োজনে “সমতার তারুণ্য” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় মেয়াদউত্তীর্ণ পশু খাদ্য থাকায় দুই দোকানের জরিমানা ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরের মাদারগঞ্জে সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস: সিরাজগঞ্জে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ, ডাবল লাইনের দাবি ​ বিশ্ব স্টোক দিবস আজ, সচেতনতাই পারে বাঁচাতে জীবন কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১

পতেঙ্গায় আবুল হোসেন ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেটের রমরমা ব্যবসা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:২৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫৪ সময় দেখুন

ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম: আব্দুল হালিম নিরব: চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য। পতেঙ্গার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের হাদিপাড়া, টিএসপি গেট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও পোশাক শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যবসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজেকে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে দাবি করে ১৯৯১ সাল থেকে ওই এলাকায় পসরা সাজিয়ে বসেছেন তিনি। মূল বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলায় হলেও পতেঙ্গায় এই কথিত চিকিৎসা পেশাকে সাইনবোর্ড বানিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল অর্থ-সম্পদ।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সামান্য হলেও তিনি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে জাহির করছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের লক্ষ্য করে জালিয়াতি: পতেঙ্গা এলাকায় দুটি বড় পোশাক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) থাকায় হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক সেখানে বসবাস করেন। এই শ্রমিকদের প্রশাসনিক ও চাকরির সুবিধাকে পুঁজি করে আবুল হোসেন গড়ে তুলেছেন ভুয়া ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ও শারীরিক যোগ্যতার সনদ (ফিটনেস সার্টিফিকেট) দেওয়ার কারবার। কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি ঢাকতে বা ছুটি নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকার বিনিময়ে সে বানিয়ে দেয় ‘শারীরিক যোগ্যতার সনদ’, ভুয়া রক্তের গ্রুপ রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সনদ। এমনকি অনলাইনে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরিতেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের ইন্তেকাল

 

সংযুক্ত দলাইল ও অসঙ্গতি:

সংযুক্ত চিকিৎসকের প্যাড ও যোগ্যতার সনদ বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি দেখা গেছে: পদবি ও ডিগ্রির অস্পষ্টতা: প্যাডে লেখা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান (ডাক্তার) মো. আবুল হোসেন, এমবিবিএস (অল্টারনেটিভ সিস্টেম), ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন অ্যান্ড জেনারেল ফিজিশিয়ান। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘এমবিবিএস (অল্টারনেটিভ সিস্টেম)’ নামক কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি নেই। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জালিয়াতি: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি প্যাডে দেখা যায়, শাহানাজ আক্তার (বয়স ২২, কার্ড নম্বর- ৫০০০৮৪৪, জুনিয়র অপারেটর) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে পেট ব্যথা, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার অজুহাতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে ‘শারীরিক যোগ্যতার সনদ’ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

 

ব্যবস্থাপত্রে অসামঞ্জস্য:

৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অপর একটি ব্যবস্থাপত্রে জিম্যাক (৫০০ মিলিগ্রাম), নাপা ওয়ান, অ্যালজিন (৫০ মিলিগ্রাম), ফেক্সো (১২০ মিলিগ্রাম) ও সিকলো (২০ মিলিগ্রাম) জাতীয় ওষুধ লেখা হয়েছে। সেখানে রোগীর শারীরিক তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট দেখানো হয়েছে—যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাভাবিক। প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি: প্যাড ও সিলমোহরে ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ সংবলিত সিল ব্যবহার করা হলেও কোনো বৈধ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর সেখানে উল্লেখ নেই। এলাকাটিতে তদারকির অভাবে এই চক্রটি অবাধে জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে !সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ এবং এই ধরনের ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ১৮৭৫টি গাছের চারা পেল শিক্ষার্থীরা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের মিলনমেলায় মুখরিত ধুনট

পতেঙ্গায় আবুল হোসেন ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেটের রমরমা ব্যবসা

আপডেটের সময়: ০৪:২৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম: আব্দুল হালিম নিরব: চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য। পতেঙ্গার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের হাদিপাড়া, টিএসপি গেট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও পোশাক শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যবসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজেকে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে দাবি করে ১৯৯১ সাল থেকে ওই এলাকায় পসরা সাজিয়ে বসেছেন তিনি। মূল বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলায় হলেও পতেঙ্গায় এই কথিত চিকিৎসা পেশাকে সাইনবোর্ড বানিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল অর্থ-সম্পদ।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সামান্য হলেও তিনি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে জাহির করছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের লক্ষ্য করে জালিয়াতি: পতেঙ্গা এলাকায় দুটি বড় পোশাক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) থাকায় হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক সেখানে বসবাস করেন। এই শ্রমিকদের প্রশাসনিক ও চাকরির সুবিধাকে পুঁজি করে আবুল হোসেন গড়ে তুলেছেন ভুয়া ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ও শারীরিক যোগ্যতার সনদ (ফিটনেস সার্টিফিকেট) দেওয়ার কারবার। কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি ঢাকতে বা ছুটি নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকার বিনিময়ে সে বানিয়ে দেয় ‘শারীরিক যোগ্যতার সনদ’, ভুয়া রক্তের গ্রুপ রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সনদ। এমনকি অনলাইনে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরিতেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

 

সংযুক্ত দলাইল ও অসঙ্গতি:

সংযুক্ত চিকিৎসকের প্যাড ও যোগ্যতার সনদ বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি দেখা গেছে: পদবি ও ডিগ্রির অস্পষ্টতা: প্যাডে লেখা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান (ডাক্তার) মো. আবুল হোসেন, এমবিবিএস (অল্টারনেটিভ সিস্টেম), ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন অ্যান্ড জেনারেল ফিজিশিয়ান। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘এমবিবিএস (অল্টারনেটিভ সিস্টেম)’ নামক কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি নেই। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জালিয়াতি: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি প্যাডে দেখা যায়, শাহানাজ আক্তার (বয়স ২২, কার্ড নম্বর- ৫০০০৮৪৪, জুনিয়র অপারেটর) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে পেট ব্যথা, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার অজুহাতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে ‘শারীরিক যোগ্যতার সনদ’ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ১৮৭৫টি গাছের চারা পেল শিক্ষার্থীরা

 

ব্যবস্থাপত্রে অসামঞ্জস্য:

৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অপর একটি ব্যবস্থাপত্রে জিম্যাক (৫০০ মিলিগ্রাম), নাপা ওয়ান, অ্যালজিন (৫০ মিলিগ্রাম), ফেক্সো (১২০ মিলিগ্রাম) ও সিকলো (২০ মিলিগ্রাম) জাতীয় ওষুধ লেখা হয়েছে। সেখানে রোগীর শারীরিক তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট দেখানো হয়েছে—যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাভাবিক। প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি: প্যাড ও সিলমোহরে ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ সংবলিত সিল ব্যবহার করা হলেও কোনো বৈধ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর সেখানে উল্লেখ নেই। এলাকাটিতে তদারকির অভাবে এই চক্রটি অবাধে জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে !সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ এবং এই ধরনের ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  নাটোরের লালপুরে শীতের আগমনী বার্তা: খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত গাছিরা