
শাকিব আহম্মেদ,লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলা এলজিইডির একের পর এক প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা বদলালেও থামেনি অনিয়মের অভিযোগ। লালপুর উপজেলা এলজিইডির একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঈশ্বরদী ও দুয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারে ১০ লাখ টাকা করে দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সংস্কার কাজে সামান্য কাজ করেই পুরো বিল তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জরিফ অ্যান্ড সন্স’। আর দুয়ারিয়া ইউনিয়নের প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি, অথচ বিল উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান। ১০ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার হয়। টেন্ডার পেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইউনিয়ন পরিষদের কাজ অদ্যবধি আজ পর্যন্ত সম্পন্ন করে নাই। রিপেয়ারিংয়ের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসছে। এক বছর আগে কাজ করার কথা ছিল।
আমি বললাম যে আমার কালার এবং জানালা-দরজা করা আছে, আপনি ফলস ছাদ করেন। আর বাকি টাকা মেম্বারদের সাথে বসে আমি কি কি করাবো, তারপরে একটা এস্টিমেট করে কাজ করে দেন। বলছে না, এটা করা যায় না। আমি (ইঞ্জিনিয়ার) স্যারকে বললাম, উনি বললেন কেন করা যাবে না আমি, আপনি, ইঞ্জিনিয়ার বসলেই হবে। এদিকে প্রায় ৬ লাখ টাকার ‘উই লাভ লালপুর’ প্রকল্পের কাজ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই ধসে পড়ে। একই সঙ্গে লালপুর সদর বাজারের ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এমন কাজে লাভবান হচ্ছেন ঠিকাদার, বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে যদি আপনি কাজ করেন, তাহলে তো কাজ হবে না। দুইদিন পরে ভেঙে যাবে। এবং আমাদের বাজারে, লালপুর বাজারে বহু দিন পরে এই কাজ হচ্ছে, তাও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। সরকারের কাছে এটুকুই দাবি আর আবদার, আমাদের এই রাস্তা যেন ঠিকভাবে হয়, ইনশাল্লাহ। আপনাকে তো বললামই, ৩ নম্বর ইটের কাজ আসছে। নিচে ৩ নম্বর, এর উপরে আসছে পাথর দিয়ে কাজ আসছে এর আগেও উপজেলার একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ।
তবে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) উপজেলা প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার মতে যে, অ্যাজ পার শিডিউলেই কাজটা হচ্ছে। তারপরেও কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি যদি আমার নজরে আসে, আমি সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কার প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কাজ। আমি একেবারেই নতুন। তো এই বিষয়টির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, এই বিষয়টির খোঁজ নেয়ার জন্য আমি এটা তদন্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। তদন্ত করলেই সেটার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। ধন্যবাদ। অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে অনিয়ম বন্ধ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।
প্রতিবেদকের নাম 


















