Dhaka ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শাজাহানপুরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক সজিবের ওপর হামলা, মামলা দায়েরের পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ চরসামাইয়া: কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন, নতুন কমিটি গঠন তারাগঞ্জে তিস্তা ক্যানেলের পাশে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার সমবায়ের ‘কাগুজে’ উন্নয়ন ও আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধা নাগরপুরে বাপুসের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি বকুল ও সম্পাদক আলমগীর কুলাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে আন্ত জেলা ০৫ ডাকাত গ্রেফতার বদলগাছীতে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বাঘা থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮ চকরিয়া-বেতুয়াবাজার সড়কে সংঘবদ্ধ চুরি ডাকাতির প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন ক্ষেতলালে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি: মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর আমিরের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক

আবদুল আজিজ সায়েম, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী):
ইতালির রাজধানী রোমে নোয়াখালীর এক প্রবাসী পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার পর আলামত মুছে পরিবারের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়নকে (২০) হত্যার অপেক্ষায় ছিল ঘাতক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া আমিরের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বাংলাদেশ সময় সময় গত শনিবার (২৭ জুন) ভোরে রোমের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও (Via Montiglio) এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী কামাল হোসেন, তার স্ত্রী জাহানারা এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরাওয়া।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয় আমিরের। তবে মা-বাবার কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরাওয়ার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন তিনি। তখনই পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে বুঝতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে না ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী

আমির জানান, ঠিক সেই মুহূর্তে আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহাদাত হোসেন (৪৩) একটি চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। প্রাণপণ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন।

রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথা ও পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি উদ্ধারকর্মীদের বলেন, “সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে আমি এই দৃশ্য দেখেছি।”

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসাধীন সিনিয়ার সাংবাদিক শাহ্ আলম কে দেখতে হাসপাতালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

ইতালীয় পুলিশের ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসা পরিষ্কার করে এবং রক্তের দাগ মুছে ফেলে। এরপর নিহত কামাল হোসেনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের সরু স্থানে এবং জাহানারা ও আরাওয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। মূলত আমিরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সে সেখানে অপেক্ষা করছিল।

আমির পুলিশকে আরও জানান, শাহাদাতের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার বাবা কামাল হোসেন তাকে পরিবার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার এক সপ্তাহ আগে শাহাদাতের সঙ্গে আমিরের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং পরিবারের সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীপুরে ক্রীড়া, কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

এদিকে, স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে শাহাদাত ও আমিরের মায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আমিরের জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে ইতালীয় পুলিশ।

নিহত কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইতালির রোমে সপরিবারে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় কাসাল সেলস এলাকার একটি সুপারমার্কেটে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শাজাহানপুরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক সজিবের ওপর হামলা, মামলা দায়েরের পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি: মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর আমিরের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক

আপডেটের সময়: ০৬:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আবদুল আজিজ সায়েম, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী):
ইতালির রাজধানী রোমে নোয়াখালীর এক প্রবাসী পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার পর আলামত মুছে পরিবারের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়নকে (২০) হত্যার অপেক্ষায় ছিল ঘাতক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া আমিরের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বাংলাদেশ সময় সময় গত শনিবার (২৭ জুন) ভোরে রোমের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও (Via Montiglio) এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী কামাল হোসেন, তার স্ত্রী জাহানারা এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরাওয়া।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয় আমিরের। তবে মা-বাবার কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরাওয়ার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন তিনি। তখনই পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে বুঝতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে কৃষি জমি রক্ষায় টাস্কফোর্সের হানা: ৩ ড্রেজার ও ১৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস

আমির জানান, ঠিক সেই মুহূর্তে আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহাদাত হোসেন (৪৩) একটি চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। প্রাণপণ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন।

রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথা ও পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি উদ্ধারকর্মীদের বলেন, “সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে আমি এই দৃশ্য দেখেছি।”

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় বাস মালিক সমিতির হয়রানির বিরুদ্ধে সিএনজি চালকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

ইতালীয় পুলিশের ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসা পরিষ্কার করে এবং রক্তের দাগ মুছে ফেলে। এরপর নিহত কামাল হোসেনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের সরু স্থানে এবং জাহানারা ও আরাওয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। মূলত আমিরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সে সেখানে অপেক্ষা করছিল।

আমির পুলিশকে আরও জানান, শাহাদাতের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার বাবা কামাল হোসেন তাকে পরিবার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার এক সপ্তাহ আগে শাহাদাতের সঙ্গে আমিরের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং পরিবারের সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল।

আরও পড়ুনঃ  এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে না ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী

এদিকে, স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে শাহাদাত ও আমিরের মায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আমিরের জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে ইতালীয় পুলিশ।

নিহত কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইতালির রোমে সপরিবারে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় কাসাল সেলস এলাকার একটি সুপারমার্কেটে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।