
মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: কৃষকদের আহাজারি ১৩-১৫ জন বর্গাচাষীর স্বপ্নের ফসল নষ্ট, মাথায় হাত কৃষকদের বালাইনাশক স্প্রে করে প্রায় ৩০ বিঘা জমির রোপা আমন ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ১৩ থেকে ১৫ জন বর্গাচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এক রাতের ব্যবধানে কষ্ট করে ফলানো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশেম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছিলেন কৃষকরা। কেউ এক বিঘা, কেউ দুই বিঘা আবার কেউ তিন বিঘা করে জমি বর্গা নিয়ে রোপা আমন ধান চাষ করেছিলেন। কয়েক মাসের শ্রম, অর্থ ও স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল এসব ধানখেতে।
বর্গাচাষীদের দাবি, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জমির ধানগাছগুলো ভালো অবস্থায় ছিল। নিয়মিত পরিচর্যা করে ধানের ফলন ভালো হবে এমন আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিস্তীর্ণ এলাকার ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ধানখেতে বালাইনাশক জাতীয় কোনো বিষাক্ত পদার্থ স্প্রে করে চলে যায়। সকালে জমিতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক কৃষক। কয়েক মাসের পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।ক্ষতিগ্রস্ত এক বর্গাচাষী বলেন, “গত মঙ্গলবারও খেতে এসে ধানগাছ দেখে গেছি। তখন ধান একেবারে ভালো ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে এসে দেখি ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতদিনের পরিশ্রম, খরচ সব শেষ হয়ে গেল।”
আরেক কৃষক জানান, জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করতে গিয়ে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার সেই খরচ তো উঠবেই না, উল্টো ঋণের বোঝা বাড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বালাইনাশক স্প্রে করে এত বড় এলাকার ধান নষ্ট করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কে বা কারা এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল এভাবে নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধান খেতে পরিদর্শন শেষে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, আটোয়ারী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ধান খেতে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাক আহমেদ জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ধান খেতে পরিদর্শন করা হয়েছে। তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে কৃষকদের পক্ষে থাকার কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 



















