Dhaka ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতকানিয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, ১আসামী গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারীতে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ফুটবল উপহার দিল মানব ও সমাজ কল্যাণ ক্লাব ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে দুঃস্থদের মাঝে কুরবানির গোস্ত বিতরণ কাহালুতে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ ঈদ উপলক্ষ্যে সম্প্রীতির চিলমারী এর টি-২০ ক্রিকেট টূর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়! শুভাঢ্যা ইউনিয়নে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ঢল কক্সবাজার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে , বাড়ছে পর্যটকের ভিড় চকরিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফিসে লুটপাট মামলার এজাহারভুক্ত আসামী গ্রেফতার

কুরবানির মাংস তিন ভাগ না করলে কি গুনাহ হবে, যা বলছে ইসলাম

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যূরো প্রধান চট্টগ্রাম )

প্রতি বছর ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের মুসলমানরা গরু, ছাগল, মহিষসহ বিভিন্ন পশু কুরবানি দেন। ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পর মাংস কাটা, ভাগ করা ও বিতরণকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত রীতি দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টনের প্রচলন।

অনেকের ধারণা, কুরবানির মাংস এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং আরেক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য রাখা উচিত। আলেম ও ধর্মীয় গবেষকরা বলছেন, কোরআন-হাদিসে এ ধরনের বণ্টনের উৎসাহ রয়েছে, তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ আনন্দের পরিবর্তে, করুণ আর্তনাদ.

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুফতি আনিসুর রহমান সিকদার বলেন, কুরবানির মাংস তিন ভাগ করার বিষয়টি হাদিসসমর্থিত এবং এটি উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত। তবে কেউ চাইলে পুরো মাংস নিজে রাখতে পারেন, আবার চাইলে সম্পূর্ণটাই দান করতেও পারেন। ইসলামে এ বিষয়ে কঠোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কোরবানির মাংস প্রসঙ্গে কোরআনের সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে (কুরবানির মাংস) থেকে খাও এবং মানুষদের খাওয়াও, মানুষের কাছে হাত পাতে না এমন অভাবীদের এবং চেয়ে বেড়ায় এমন অভাবীদের।’

আরও পড়ুনঃ  নগরীর কোরবানি পশুর হাট পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার শওকত আলী

ধর্মীয় গবেষকদের মতে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরবানির মাংসের একটি অংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখতেন, একটি অংশ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দিতেন এবং আরেকটি অংশ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করতেন। এই আমল থেকেই তিন ভাগের প্রচলন এসেছে।

বাংলাদেশের অনেক এলাকায় ‘সামাজিক ভাগ’ নামে একটি রীতি প্রচলিত রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোরবানিদাতারা মাংসের একটি অংশ সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য আলাদা করে রাখেন। কোথাও কোথাও গ্রামের সবাই মিলে কোরবানি দিয়ে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের জন্য সংগ্রহ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদের দিনসহ আগামী পাঁচদিনই থাকতে পারে বৃষ্টির দাপট

তবে ধর্মীয় গবেষকরা বলছেন, সামাজিক ভাগ স্বতঃস্ফূর্ত হলে তা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গ্রামের মাতব্বর যদি জোর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস দিতে বাধ্য করেন, তাহলে তা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া প্রকাশ। কোরআনেও উল্লেখ আছে, আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছে না, পৌঁছে মানুষের তাকওয়া বা ধর্মনিষ্ঠা। তাই কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হওয়া উচিত আন্তরিকতা ও মানবিকতা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, ১আসামী গ্রেপ্তার

কুরবানির মাংস তিন ভাগ না করলে কি গুনাহ হবে, যা বলছে ইসলাম

আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যূরো প্রধান চট্টগ্রাম )

প্রতি বছর ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের মুসলমানরা গরু, ছাগল, মহিষসহ বিভিন্ন পশু কুরবানি দেন। ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পর মাংস কাটা, ভাগ করা ও বিতরণকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত রীতি দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টনের প্রচলন।

অনেকের ধারণা, কুরবানির মাংস এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং আরেক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য রাখা উচিত। আলেম ও ধর্মীয় গবেষকরা বলছেন, কোরআন-হাদিসে এ ধরনের বণ্টনের উৎসাহ রয়েছে, তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারীতে ঈদ উৎসব পালনে অর্থ প্রদানের তালিকায় কছিরনের নাম নেই

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুফতি আনিসুর রহমান সিকদার বলেন, কুরবানির মাংস তিন ভাগ করার বিষয়টি হাদিসসমর্থিত এবং এটি উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত। তবে কেউ চাইলে পুরো মাংস নিজে রাখতে পারেন, আবার চাইলে সম্পূর্ণটাই দান করতেও পারেন। ইসলামে এ বিষয়ে কঠোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কোরবানির মাংস প্রসঙ্গে কোরআনের সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে (কুরবানির মাংস) থেকে খাও এবং মানুষদের খাওয়াও, মানুষের কাছে হাত পাতে না এমন অভাবীদের এবং চেয়ে বেড়ায় এমন অভাবীদের।’

আরও পড়ুনঃ  নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়!

ধর্মীয় গবেষকদের মতে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরবানির মাংসের একটি অংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখতেন, একটি অংশ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দিতেন এবং আরেকটি অংশ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করতেন। এই আমল থেকেই তিন ভাগের প্রচলন এসেছে।

বাংলাদেশের অনেক এলাকায় ‘সামাজিক ভাগ’ নামে একটি রীতি প্রচলিত রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোরবানিদাতারা মাংসের একটি অংশ সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য আলাদা করে রাখেন। কোথাও কোথাও গ্রামের সবাই মিলে কোরবানি দিয়ে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের জন্য সংগ্রহ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বই ছাপিয়ে তুলছেন হোল্ডিং টেক্স,ব্যাংক হিসাবে জমা না হলেও হচ্ছে তিলক পকেটে

তবে ধর্মীয় গবেষকরা বলছেন, সামাজিক ভাগ স্বতঃস্ফূর্ত হলে তা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গ্রামের মাতব্বর যদি জোর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস দিতে বাধ্য করেন, তাহলে তা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া প্রকাশ। কোরআনেও উল্লেখ আছে, আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছে না, পৌঁছে মানুষের তাকওয়া বা ধর্মনিষ্ঠা। তাই কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হওয়া উচিত আন্তরিকতা ও মানবিকতা