
জাহেদ কায়সার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় টানা তৃতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার মোঃ শরীফ বাঘা।
২৫ এপ্রিল (শনিবার) ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত বলীখেলার ফাইনাল খেলায় তিনি একই এলাকার রাশেদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
৪৫ মিনিটের এই দ্বৈরথে কেউ কাউকে ছাড় দেননি। তবে কৌশলগত ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শরীফকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত।
বিকেল সাড়ে তিনটায় থেকে রিংয়ে বলীখেলা শুরু হয়। ১০৮ জন বিভিন্ন বয়সী বলী এতে অংশ নেন।
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ৩০০টিরও বেশি খুঁটি দিয়ে নির্মিত বিশেষ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার উদ্বোধন হয়। বেলুন উড়িয়ে বলীখেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মোট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ এর হতে পুরষ্কার তুলেদেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর।
খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হন হাজারো দর্শক। প্রতিটি লড়াই ঘিরে তৈরি হচ্ছে তুমুল উত্তেজনা, করতালি ও উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এদিকে, বলীখেলাকে ঘিরে লালদীঘি মাঠে বসেছে তিন দিনের বৈশাখি মেলা। মেলায় রয়েছে মাটির সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের হস্তশিল্প, খেলনা, লোকজ অলংকার এবং দেশীয় খাবারের নানা দোকান। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা।
১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবদুল জব্বার সওদাগরের হাত ধরে এই বলীখেলার সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লালদীঘির এই বলীখেলা এখনও সমানভাবে টানে দর্শকদের। শক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম 



















