
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বলি রায়টা মেনে নেন, রায় মেনে নিলে এই স্টেজে দাঁড়িয়ে আমরা আর বক্তব্য দেব না। কিন্তু এই রায় যদি না মানেন, মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আন্দোলন চলবে সংসদে, একইসঙ্গে আন্দোলন চলবে রাজপথেও। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এই গণসমাবেশের আয়োজন করে দলটি। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলসহ তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল।
অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির বলেন, এই মঞ্চে যারা বসে আছেন তারা প্রমাণ করেছেন জীবন দেব, তবু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আফসোস, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যে খুনের রাজনীতি দিয়ে হাত রাঙিয়ে হাসিনার রাজনীতির উত্থান হয়েছিল, তাদের হাতে একসময় যারা সকলে মজলুম ছিলাম, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গিয়েছে। বিএনপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের প্রস্তাব তাদের একজন করেছিলেন। তাদের নেতা রংপুরে গিয়ে বলেছিলেন, দেশবাসী ভোট দেবেন দুইটা, একটা দেবেন আমাদের মার্কায় আর একটা গণভোটে হ্যাঁ বলবেন। এখন তারা গণভোটকে অবৈধ বলছেন। আমরা সংসদে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এটা কি নির্বাচনের পরে অবৈধ হলো, না আগেই অবৈধ ছিল? তারা বলেন, আমরা ৪টার মধ্যে সাড়ে তিনটা মানি। কোনো সময় বলেন, পুরোটাই অবৈধ। একই আদেশের দুইটা ভোট। গোস্ত হালাল, কিন্তু ঝোল হারাম। এ সুবিধাবাদী মানসিকতা।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন ন্যারেটিভ, বয়ান তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। আর উনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করে দেশ চালাব। এখন আপনারা কি করছেন, এক দলকে পাঠাচ্ছেন পাকিস্তানে, আর একদলকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন পেশোয়ারে। আর একদলকে পাঠাচ্ছেন অন্য কোনো দেশে। আর নিজেরা এই দেশের জমিদারি দখল নিতে যাচ্ছেন। মনে রাখবেন, জুলাইয়ের দুইটা স্লোগান ছিল শক্তিশালী। একটা ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আর একটা ছিল ‘দেশটা কারও বাপের নয়। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যাদের হাতে পায়ে ধরে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন তাদের পরিণতি দেখে শিক্ষা নেন। মনে রাখবেন বিজয় জনগণেরই হবে।
সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বক্তাদের মধ্যে আরও ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আলী ওসমান, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ (হানজালা), ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল জাবের প্রমুখ।
প্রতিবেদকের নাম 





















