
নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুরে (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে গ্রাহকরা। আকাশে মেঘ, একটু বেশি রোদ, একটু গাছের পাতা নড়া দিলেই উধাও হয়ে যেতে বিদ্যুৎ। এখন নড়াচড়া না দিলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রাহকদের থাকতে হয় বিদ্যুৎহীন । এত ঘনঘন বিদ্যুৎ-লোডশেডিং হওয়ায় বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, হোসেনপুরে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা। পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে ভালো সার্ভিস দিলেও হোসেনপুরে ব্যর্থ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সাবস্টেশন স্থাপন করা হলেও বিতরণ ব্যবস্থা সঠিক না থাকায় তার সুফল পাচ্ছেন না এ অঞ্চলের প্রায় ৬১ হাজার গ্রাহক। যে কারণে প্রতি দিনেই সময়ে অসময়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা এমনকি একটু বাতাস হলেই ১-২ দিন বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় উপজেলাবাসীকে। এতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে দিনাতিপাত করতে হয়। টানা ছুটিতে ও বিদ্যুতের তেলেসমাতি দেখায় হোসেনপুরে।
বিতরণ ব্যবস্থায় ক্রটি হওয়ায় কারণ দেখিয়ে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় । এছাড়াও একটু সামন্য বৈরী আবহাওয়া হলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ ১৮/১৯ ঘণ্টার ও অধিক সময়ে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়, গত সপ্তাহে কম করে হলেও ৭০-৮০ বার বিদ্যুতের আসা যাওয়ার করেছে । বিদ্যুৎ গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ আসার খবর থাকে না । এ রকম অবস্থা প্রতিদিনেই পড়তে হয় গ্রাহকদের। এহেন পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে সরকারের উন্নয়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের বিনির্মাণ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে আসছেন। তাতে করে সরকারে ব্যাপক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ যশোদল ট্রান্সমিশন কেন্দ্র থেকে এক সাথে ১২টি বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাব ষ্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। সেখানে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো সিস্টেমই অচল হয়ে যায়, যে কারণে এর সাথে সম্পৃক্ত সকল এলাকাই বিদ্যুত বিহীন হয়ে পড়ে। হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানাযায়, উপজেলার ৬১ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে ৫-৬ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যায়, যে কারণে লোডশেডিং ছাড়া উপায় নেই। এছাড়াও প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার খোলা তারের ওভার হেড লাইন রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা স্বাভাবিক। এ কারণে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেটি সনাক্ত করা অনেক সময় লেগে যায়। ত্রুটি চিহিৃত করার পর সেটি সারাইতে হলে প্রয়োজন নিরাপদ গ্রাউন্ডিং; যে কারণে সে কাজ করতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
বিদ্যুত সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যশোদল গ্রীড থেকে একসাথে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুত সমিতির ১২টি সঞ্চালন লাইনের মধ্যে হোসেনপুরের সাথে তাড়াইল, কটিয়াদি ও নান্দাইল উপজেলার মুসল্লীর অংশ রয়েছে; যে কারণে তাড়াইল উপজেলা হোসেনপুর থেকে ৬০ কিলোমিটার দুরত্বে হলেও সেখানে ঝড়বৃষ্টির কারণে বিতরণ লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে এর সাথে সংযুক্ত সকল লাইন বন্ধ রেখে ত্রুটি সনাক্ত করে লাইন চালু করতে হয়। তাড়াইল উপজেলার জন্য আলাদা সাব ষ্টেশন চালু হলে অনেকটাই কমবে লোডশেডিং হোসেনপুরের বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করে জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং জন্য বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের সাথে অভিযোগ দিলে তারা আগে কথা গুলো সুন্দর করে শুনেন তারপর গ্রাহকের মিটার নম্বর লিখেন নেন কয়েক দিন পর এসে সেই গ্রাহকের বিরুদ্ধে মিটার সমস্যা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন বলে গ্রাহকে হয়রানি বা জরিমানা করে থাকেন সে জন্য গ্রাহকরা ভয়ে কিছু বলেন না। চর বিশ্বনাথ পুরের হারুন অর রশিদ নামের এক গ্রাহক বলেন, হোসেনপুরে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের ব্যবহার খুব খারাপ দুইয়েক জন ছাড়া সবাই এক রকম। মহিলা কর্মচারী গুলোর ব্যবহার আরো খারাপ এরা স্থানীয় হওয়ায় গ্রাহকের সাথে আরো দূর ব্যবহার করে বেশি। বেশি কিছু কথা বলা যায় না মামলার ভয় দেখান। হোসেনপুরে সকল ইউনিয়নে খবর নি য়ে জানাযায়, দিনে রাতে ঘন্টা পর ঘন্টা লোডশেডিং করা হয় । যা দায়িত্বে অবহেলা এবং তাদের ইচ্ছে মতো অফিস পরিচালনা করেছেন। হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কে কয়েক দিন ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেনি।
প্রতিবেদকের নাম 


















