
মোঃ শরিফ হোসেন,ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভুতা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি অবস্থিত বারু হাওলাদার কান্দি এলাকার আজ ১৩ জুলাই সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পাকাকরণের অভাবে এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই কাদায় সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির উভয় প্রান্তেই আধাপাকা ও পাকা সড়কের সংযোগ থাকলেও মাঝখানের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বছরের পর বছর কাঁচাই রয়ে গেছে। গ্রামের উত্তর প্রান্তে প্রবেশমুখে এই সড়কটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। একটি সড়ক জনতা বাজারের দিকে, অন্যটি আমজাদ বাড়ি হয়ে চম্পার মোড়ের পাকা সড়কে এবং আরেকটি লালমোহন-তালপাতা বাজার হয়ে ছিদ্দিক মিয়ার পুলের পাকা সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ প্রান্তে বারু হাওলাদার কান্দি সমাজের ঈদগাহ সংলগ্ন সেতু পার হয়ে খালের দক্ষিণ পাড় দিয়ে ছিদ্দিক মিয়ার পুলের প্রধান পাকা সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া ঈদগাহ থেকে আরেকটি সংযোগ সড়কও ছিদ্দিক মিয়ার পুলের আগের মোড়ে পাকা সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও মাঝখানের কাঁচা অংশটি আজও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার শত শত মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রায়ই পথচারী ও শিক্ষার্থীরা পা পিছলে পড়ে আহত হন। অনেক শিক্ষার্থীর বই-খাতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি দুর্ভোগের কারণে অনেক সময় তারা বিদ্যালয়েও উপস্থিত হতে পারেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগের আওয়ামী সরকারের সময় সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে এলাকাবাসী একই ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, এই সড়কটি পাকা হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















